সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে আবার আফগানিস্তানের শাসক তালিবানকে নিশানা করল পাকিস্তান। এ বার ইসলামাবাদের তরফে ‘কূটনৈতিক চরমপত্র’ (কূটনৈতিক পরিভাষায় ‘ডিমার্শ’) পাঠানো হল কাবুলে। পাক বিদেশ দফতর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আফগান ‘ডেপুটি হেড অফ মিশন’-কে বুধবার তলব করে তাঁকে ‘ডিমার্শ’ দেওয়া হয়েছে। তাতে স্পষ্ট ভাষায় লেখা, ‘সন্ত্রাসবাদী হামলার জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে’।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী। আফগান তালিবানের একাংশ তাদের মদত দিচ্ছে। যদিও ইতিহাস বলছে, আফগানিস্তানে মার্কিন মদতপুষ্ট সরকার থাকাকালীনও সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টিটিপি (পাক সরকার এবং সেনা যাদের ‘ফিতনা আল খোয়ারিজ়’ বলে চিহ্নিত করে)-র ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। ২০২১ সালের ১৫ অগস্ট তালিবান ক্ষমতা পুনর্দখল করার পরেও সেই ‘ধারাবাহিকতা’ অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলায় জঙ্গিরা বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে ধাক্কা দিলে ১১ সেনা এবং এক সাধারণ নাগরিক নিহত হন। তার পরেই এই পদক্ষেপ করেছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতেই ওই ‘সন্ত্রাসের পরিকল্পনা’ হয়েছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে টিটিপি গোষ্ঠীর সঙ্গে পাক সরকারের শান্তিবৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। তার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে অশান্ত হচ্ছে খাইবার পাখতুনখোয়া। ২০২৪ ডিসেম্বরে তালিবানশাসিত আফগানিস্তানের মাটিতে জঙ্গিদের ডেরায় পাক বিমানহানার কথা জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। যদিও কাবুল পাল্টা অভিযোগ করেছিল, জঙ্গিরা নয়, সাধারণ গ্রামবাসীরা পাক বিমানহানার শিকার হন।
আরও পড়ুন:
এর পরে গত বছরের ৯ অক্টোবর তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফর শুরুর দিন পাক বিমানহামলা হয়েছিল কাবুল-সহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়। ঘটনার জেরে দু’দেশের বাহিনী সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শেষে কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামবাদ-কাবুল সংঘর্ষবিরতি হয়। কিন্তু এর পরেও শর্ত লঙ্ঘন করে সীমান্তবর্তী আফগান গ্রামগুলিতে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নির্দেশ হামলা হয় বলে অভিযোগ তালিবানের। এ ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের পাল্টা দাবি, সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে টিটিপির ডেরাগুলিতে হানা দেওয়া হয়েছে। শুধু টিটিপি নয়, আফগানিস্তানের মাটিতে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র গোপন ঘাঁটিও রয়েছে বলে পাক সেনার অভিযোগ। প্রসঙ্গত, বিএলএ বিদ্রোহীদের ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে চিহ্নিত করে পাক সরকার এবং সেনা।