E-Paper

হাঙ্গেরিতে হারলেন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ অরবান

রবিবার হাঙ্গেরির ভোটের দিকে চোখ ছিল আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইউরোপের। ট্রাম্প সরাসরি অরবানকে সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দু’জনেই তাঁদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি লগ্নি করেছিলেন অরবানের উপরে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৯
পার্লামেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের কাছে হেরে গিয়েছেন জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্তর অরবান।

পার্লামেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের কাছে হেরে গিয়েছেন জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্তর অরবান। ছবি: সংগৃহীত।

ইরান সঙ্কট কাটার আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু হারালেন। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরে পার্লামেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের কাছে হেরে গিয়েছেন জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্তর অরবান। ১৯৯টি আসনের হাঙ্গেরীয় পার্লামেন্টে ম্যাগিয়ারের দল ১৩৮টি আসন জিতেছে।

রবিবার হাঙ্গেরির ভোটের দিকে চোখ ছিল আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইউরোপের। ট্রাম্প সরাসরি অরবানকে সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দু’জনেই তাঁদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি লগ্নি করেছিলেন অরবানের উপরে। ভান্সকে ট্রাম্প হাঙ্গেরি পাঠিয়েওছিলেন অরবানের হয়ে প্রচার করতে। অরবানের শাসননীতি ছিল অনেকটা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ কর্মসূচির মতো। অরবান বলতেন, তিনি একটা অনুদারনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পথের কাঁটা বলে নিজেকে বর্ণনা করতেও ভালবাসতেন।

সেই কাঁটা এ বার ইইউ-এর থাকছে না। এর ফলে কি ঝামেলায় পড়বেন নেতানিয়াহু? জল্পনা চলছে বিভিন্ন মহলে। অরবান না থাকার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সহজ হবে কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ ম্যাগিয়ার ইউরোপপন্থী রক্ষণশীল উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত। এর আগে যখনই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইজ়রায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করতে গিয়েছে, অরবান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, ভেটো প্রয়োগ করেছেন। গত বছরও তিনি ইজ়রায়েলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ঠেকিয়ে দেন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অরবান ঘোষণা দেন যে, তিনি এই আদেশ অমান্য করবেন। হাঙ্গেরি ছিল দু’টি ইউরোপীয় দেশের একটি, যারা গাজ়ায় ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেয়। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম অরবানকে নেতানিয়াহুর ‘ফায়ারওয়াল’ বলে বর্ণনা করত।

অরবান অবশ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ইউক্রেনকে হাঙ্গেরির শত্রু বলেই ভোটে প্রচার করেছেন। তার পাশাপাশি চিন এবং তুরস্কও বন্ধু বলে দাবি করেছেন। এখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেপ এর্ডোগানের বাগযুদ্ধও বাড়ছে। এর্ডোগান ইজ়রায়েল আক্রমণ করতে পারেন বলে হুমকি দিয়ে রেখেছেন। তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি নেতানিয়াহুকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছে। সোমবার ব্রিটেন, ফ্রান্স-সহ নেটো সদস্যদের অনেকেই হরমুজ় অবরোধে যোগ দিতে অস্বীকার করে। ফলে নেটোর মধ্যে ভাঙন দেখা দেবে কি না, সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন দিকে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি। অরবান না থাকাটা সেখানে একটা ভূমিকা নিতে পারে। তবে ইজ়রায়েলের একটা মহলের দাবি, ম্যাগিয়ার এলেই ইজ়রায়েলর সঙ্গে সম্পর্ক নাটকীয় ভাবে বদলে যাবে, তা নয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Hungary Donald Trump

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy