E-Paper

‘যুদ্ধ চলছে’, ট্রাম্পের মন নেই শিশু সুরক্ষায়

আমেরিকার একটি বড় সংখ্যার মানুষ, যাঁরা ছোট সন্তানদের অভিভাবক, প্রত্যেক দিন বাচ্চাদের চাইল্ড কেয়ারে পাঠানোর জন্য সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরশীল। এঁদের মধ্যে রয়েছেন নিম্নবিত্ত এবং উপজাতিভুক্ত মানুষেরা।

মহুয়া সেন মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৯
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

‘আমরা যুদ্ধ করছি। স্বাস্থ্যবিমা বা শিশুদের দেখভালের জন্য বিশেষ ভাতা— এ সব নিয়ে ভাবনার সময় আমাদের নেই’।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা অপ্রত্যাশিত না হলেও আশঙ্কাজনক তো বটেই। এ বছর জানুয়ারি মাসেই ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল যে, দুঃস্থ মা-বাবাদের শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, আপাতত তা বন্ধ রাখা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রাদেশিক সরকার তখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। অনেক বিচারকই কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এক বিচারক তো চারটি প্রদেশে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেন। তখন মনে হচ্ছিল, চাপের মুখে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটবেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, নিজের অবস্থানেই অনড় ট্রাম্প। কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কথাও বলেছেন তিনি।

আমেরিকার একটি বড় সংখ্যার মানুষ, যাঁরা ছোট সন্তানদের অভিভাবক, প্রত্যেক দিন বাচ্চাদের চাইল্ড কেয়ারে পাঠানোর জন্য সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরশীল। এঁদের মধ্যে রয়েছেন নিম্নবিত্ত এবং উপজাতিভুক্ত মানুষেরা। এই সব পরিবারের শিশুদের অভিভাবকেরা কর্মক্ষেত্রে থাকাকালীন, শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পান। আমেরিকার ৫০টি প্রদেশেই এই অনুদান প্রকল্প চালু রয়েছে এবং এই অনুদানের একটা বড় অংশ আসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে।

২০২১ সালের গণনা অনুযায়ী, সারা দেশের এক কোটি ১৫ লক্ষ শিশুর এই অনুদানের আওতায় আসার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই অনুদান পায় মাত্র ১৮ লক্ষ শিশু। তারা দারিদ্র সীমার খুবই নীচের দিকে, মোট চাহিদার ১৫ শতাংশের মতো। এই অনুদান এ ভাবে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে এই পরিবারগুলি বাচ্চাদের রেখে কাজে যেতে পারবে না, আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এই ছোট চাইল্ড কেয়ার সংস্থাগুলিও এই অনুদান ছাড়া চলবে না, তাদের দরজা বন্ধ করতে হবে। ‘চাইল্ড কেয়ার অ্যাওয়ার অব আমেরিকা’ নামক সংস্থার কর্ণধার সুসান কেরির কথায়, ‘‘ট্রাম্প প্রশাসন আর্থিক নয়-ছয়ের অভিয়োগ এনে এই চাইল্ড কেয়ার অনুদান বন্ধ করে দিতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবে এই অনুদানের প্রতিটি স্তর অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং প্রত্যেকটি সংস্থা কঠোর মূল্যায়নের মধ্যে দিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। নতুন করে এই অনুদান-ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়ার কোনও যুক্তিই নেই।’’

এই বিভ্রান্তিমূলক অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে লক্ষ লক্ষ পরিবার। নিজেদের এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে তাঁদের মনে। সকলেই তাকিয়ে বিচারব্যবস্থার দিকে। আদালতের রায় কি আটকাতে পারবে প্রেসিডেন্টকে?

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Donald Trump US-Israel vs Iran USA Child Safety

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy