বিক্ষোভে উত্তপ্ত ইরানে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩,০০০ জনের। এমনটাই দাবি করছে মানবাধিকার সংগঠন। নিহতদের মধ্যে ২,৮৮৫ জন প্রতিবাদী। আট দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার পরে সে দেশের কিছু সংখ্যক জায়গায় সামান্য মিলছে পরিষেবা। তবে দেশের একটা বড় অংশে এখনও বন্ধ ইন্টারনেট। এর মধ্যেই ইরানে আটক ১৬ জন ভারতীয় নাবিককে সে দেশে নয়াদিল্লির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়ার আর্জি জানাল বিদেশ মন্ত্রক। ইরানের প্রশাসনের কাছে সেই আর্জি জানিয়েছে তেহরানস্থিত ভারতের দূতাবাস।
আমেরিকার এইচআরএএনএ গোষ্ঠী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে প্রাণ হারিয়েছেন ৩,০৯০ জন। তাদের দাবি, সব যাচাই করে এই পরিসংখ্যান মিলেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আটক হয়েছে বহু মানুষ। ইরানের প্রশাসন এই মৃত্যুর জন্য দায় চাপিয়েছে প্রতিবাদীদের উপর। তাদের দাবি, বহু প্রতিবাদীর হাতে রয়েছে অস্ত্র। তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে দাগিয়েছে প্রশাসন। ইরানের প্রশাসনের আরও দাবি, এই সশস্ত্র প্রতিবাদীদের এককাট্টা করার নেপথ্যে রয়েছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। তাই সে দেশে নিরাপত্তারক্ষী এবং প্রতিবাদীদের মৃত্যুর জন্য ওই দুই দেশও দায়ী।
প্রায় ২০০ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার পরে শনিবার সকালে দেশের কিছু কিছু জায়গায় মিলছে নেট। এ কথা জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘নেটব্লকস’। পশ্চিম তেহরানের করাজের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে ফোনে জানিয়েছেন, শনিবার ভোর ৪টে (স্থানীয় সময়) নাগাদ ইন্টারনেট চালু হয়েছে।
শনিবার তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এমটি ভ্যালিয়েন্ট রোরকে আটক করে ইরানের প্রশাসন। তাতে সওয়ার ছিলেন ১৬ জন। বন্দর আব্বাসে ভারতীয় দূতাবাস গত ১৪ ডিসেম্বর ইরান প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে আটকদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়ার আর্জি জানায়। ওই জাহাজের মালিকানা রয়েছে আরব আমিরশাহির একটি সংস্থার হাতে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভারতীয় দূতাবাস। ওই সংস্থার ইরানের এজেন্টের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে, যাতে আটকদের ঠিক মতো খাবার, জল দেওয়া হয়। ইরানের আদালতে আটকদের হয়ে মামলা লড়ার জন্য ওই সংস্থাকে আইনি সাহায্যের ব্যবস্থা করতেও বলেছে ভারতীয় দূতাবাস। সর্বোপরি ধৃতেরা যাতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, সেই সুযোগ করে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস। প্রসঙ্গত, ওই জাহাজে আটক ইঞ্জিনিয়ারের বাবা মুকেশ মেহতা সরকারের কাছে আর্জি জানান তাঁর পুত্রকে ফিরিয়ে আনতে। তার পরেই সক্রিয় হয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
ইরানে গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে গণবিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা-ই এখন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নিয়েছে। এবং তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে দমনপীড়ন। লাফিয়ে বাড়ছে নিহতদের সংখ্যাও। বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাহায্য পাঠানোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি।