Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

বাগানের মাটি খুঁড়ে মিলল দু’হাজার বছরের প্রাচীন কঙ্কাল, গায়ে জড়ানো বহুমূল্য অলঙ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৭ জুলাই ২০১৯ ১১:১৭
রাশিয়ার আস্ত্রাখানে নিজের বাগানে ময়লা ফেলার জন্য গর্ত খুড়ছিলেন এক কৃষক। কিছুটা গর্ত খোঁড়ার পর তিনি খুঁজে পান একটি ব্রোঞ্জের পাত্র। আরও সম্পদের আশায় আরও গভীরে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন তিনি। এর পর যা ঘটল, তা দেখে শুধু ওই কৃষক নয়, চোখ কপালে উঠল অনেকেরই।

বাগানের মাটি খুঁড়ে খোঁজ মিলল আরও সোনাদানার, তবে সেটা কোনও গুপ্তধন নয়, একটি বাচ্চার কঙ্কালের গায়ে জড়ানো ছিল ওই গয়না। তবে শুধু বাচ্চার কঙ্কালই নয়, তার পাশে শায়িত ছিল আরেকটি কঙ্কাল। সেই কঙ্কাল এক যোদ্ধার।
Advertisement
প্রত্নতত্ত্ববিদরা কঙ্কালগুলি পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, তাদের বয়সকাল ২০০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি। কঙ্কালগুলির লিঙ্গ এখনও অবধি জানা না গেলেও তাদের শায়িত করার অবস্থান ও কঙ্কালের সঙ্গে রাখা জিনিসপত্র দেখে জানা যায় যে, বাচ্চাটি সমাজের কোনও উচ্চ বর্ণের বা বিশিষ্ট কোনও স্থানের অধিকারী ছিল।

যোদ্ধার খুলিতে খোঁজ মিলেছে একটি গর্তের। গবেষকদের মতে, ওই যোদ্ধার মাথায় কোনও রূপ জটিল অস্ত্রোপচার করার সময়ই তার মৃত্যু ঘটে। এর কারণ হিসাবে গবেষকরা বলেছেন, যেহেতু তার খুলির ওই গর্তের পাশে ও হাড়ে টিস্যুর পুনঃবৃদ্ধি ঘটেনি, তাই তার তাৎক্ষনিক মৃত্যু হওয়ার যুক্তিই মানতে হবে।
Advertisement
যোদ্ধার খুলির এই গর্ত যে যুদ্ধক্ষেত্রে লাগা কোনও আঘাত নয়, সেই বিষয়ে গবেষকরা নিশ্চিত। কারণ আঘাত লাগার ফলে সৃষ্টি হওয়া গর্ত কখনওই এতটা নির্দিষ্ট আকারের হয় না। ওই যোদ্ধা হয়ত কোনও রোগ, যেমন দীর্ঘকালীন মাথা ব্যথা বা এপিলেপসির মতো রোগে ভুগছিলেন। কিংবা যুদ্ধে আঘাত লাগার ফলে মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল।

সেই চিকিৎসা করতেই ওই যোদ্ধার খুলিতে ছিদ্র করে এই অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল। সেই সময়েই কোনও ভুল হওয়ায় তার মৃত্যু ঘটে। তাঁকে অবচেতন করার জন্য ভাং, জাদুকরী মাশরুমের ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, ওই সময় রোগীর চারপাশে নাচ করা হত তার ব্যথা উপশমের জন্য।

বাচ্চাটির মৃত্যুর কারণ জানা না গেলেও তার বয়স আন্দাজ করা হচ্ছে দু’বছরের কাছাকাছি। কারণ তার দুধের দাঁতও সম্পূর্ণ ভাবে ওঠেনি যখন সে মারা যায়। এই বাচ্চাটির দেহে পরানো ছিল প্রচুর অলঙ্কার। পাশে রাখা যোদ্ধার দেহে কোনও অলঙ্কার না থাকলেও রাখা ছিল একটি হাতল ভাঙা ছোরা। কমলা রঙের একটি চামড়ার খাপে সেটি রাখা ছিল।

তবে শুধু ছোরা নয়, তির সমেত তূণীরও রাখা ছিল। যদি যোদ্ধার কবর বোঝাতেই এই জিনিসগুলি রাখা হয়, তা হলে সঙ্গে রাখা বাচ্চাটির কবরে এত অলঙ্কার এবং মূল্যবান রত্ন কেন রাখা হয়েছিল তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তাদের দু’জনের কবরের মাঝে রাখা ছিল হাঁসের আকৃতির একটি তেলের পিপেও।

বাচ্চাটির কবরে মূল্যবান রত্ন-পাথরগুলির মধ্যেই রাখা ছিল প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত মেডুসার কাটা মাথা ধরে রাখা পারসিউস-এর মূর্তি। এর ফলে বাচ্চাটি গ্রিক বা কোনও যাযাবর সম্প্রদায়ের হওয়ার যুক্তিটিও উঠে আসছে।

যোদ্ধার মৃত্যুর কারণ নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌছানো গেলেও বাচ্চাটির কঙ্কালটি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। তার দেহে যেমন কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না, তেমনই ছিল না চিকিৎসা চলার কোনও প্রমাণ। আকস্মিক কী কারণে মৃত্যু হল শিশুটির এবং কেনই বা তাঁকে ওই যোদ্ধার সঙ্গে একই কবরে শায়িত করা হয়েছিল তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

মিশরীয় সভ্যতায় মমির সঙ্গে বহু মূল্যবান রত্ন ও প্রিয় জিনিসগুলি কবর দেওয়ার প্রচলন থাকলেও এই শিশুটির সঙ্গে কেন এত রত্ন ও অলঙ্কার দেওয়া হয়েছিল, তা জানা যায়নি। ছোট বড় বিভিন্ন আকারের নানা অলঙ্কার ও রত্নে বাচ্চাটির কঙ্কাল প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছিল।

কাসপিয়ান সাগরের কাছেই আস্ত্রাখান অবস্থিত হওয়ায় অনেক গবেষকের মতে, তারা সমুদ্রের ওপার থেকেও আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওই কৃষক নিজের বাগানে যে এত বছর ধরে  বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও  দু’টি কঙ্কাল চাপা ছিল, সে সম্পর্কে তা কোনও ধারণা ছিল না বলেই জানান।