বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছিলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর শেষতম মেয়াদ চলছিল। নতুন করে ওই পদে আর তিনি প্রার্থী হতেন না। এমনটাই জানিয়েছেন হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয় এবং সরকার-বিরোধী আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন হাসিনা।
হাসিনার পুত্র জয় আমেরিকায় থাকেন। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজ়িরাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। মায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন। হাসিনা অবসর নিলে আওয়ামী লীগের কী হবে, সে প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হাসিনার ইস্তফাকেই বাংলাদেশে হাসিনা-যুগের অবসান বলে ব্যাখ্যা করেছেন জয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মায়ের বয়স হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এটাই তাঁর শেষ ‘টার্ম’ ছিল। তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন।’’
আরও পড়ুন:
হাসিনার পদত্যাগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন জয়। বলেছেন, ‘‘এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। মাকে নিয়ে হোক বা মাকে ছাড়া, দল চলবে। কেউ চিরকাল থাকে না।’’
অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা। তাঁর একটি অডিয়োবার্তাও প্রকাশ্যে এসেছে, যা বাংলাদেশের পুলিশ আদালতে জমা দিয়েছিল। সেই অডিয়ো সম্পর্ক প্রশ্ন করা হলে জয় দাবি করেন, তাঁর মা ওই কথা বলেছিলেন ঠিকই, তবে তার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আসলে সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ওই অস্ত্র প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নয়, দাবি জয়ের।
বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর ভারতে চলে এসেছিলেন হাসিনা। এখনও ভারতেই আছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে একাধিক বার নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছে। জয় জানিয়েছেন, ভারত কখনওই তাঁর মাকে ঢাকার হাতে তুলে দেবে না। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের প্রমাণ নেই। নয়াদিল্লি এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলেছে বলে দাবি জয়ের। তিনি মনে করেন, তাঁর মা ভারতেই সবচেয়ে সুরক্ষিত।