আমেরিকার হানার পর পশ্চিম এশিয়ার তিন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের হামলা চালাল ইরান। বৃহস্পতিবার (ভারতীয় সময় অনুসারে) জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে তেহরান হামলা চালায়। ইরান সামরিক অভিযান শুরু করতেই তড়িঘড়ি কিছু সময়ের জন্য কুয়েত বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেই সময় আহত হন বেশ কয়েক জন। মৃত্যু হয় এক ভারতীয়ের।
অন্য দিকে, আমেরিকার উপর চাপ বৃদ্ধি করতে হরমুজ় নিয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে ইরান। সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, তেহরানের উপরমহল থেকে পরবর্তী নির্দেশিকা না-আসা পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে ইতিমধ্যেই প্রণালী অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলিকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বুধবারই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “ওরা চুক্তির জন্য সমঝোতা করতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তি করলে তা ওদের জন্য খুব ভাল হত। কিন্তু এখন ওদের মূল্য চোকাতে হবে।’’ তার পরেই ইরান আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি করে আমেরিকা। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়, ইরানের ‘ধারাবাহিক আগ্রাসন’ মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ করছে তারা।
বুধবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকা গত কাল জোরালা হামলা চালিয়েছে। আজ আবার ওদের (ইরান) উপর হামলা চালাতে চলেছে।” ট্রাম্পের কথার সূত্র ধরেই মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ পরে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। আমেরিকাকে জবাব দেয় ইরানও। সে দেশের পার্লামেন্টের জাতীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজ়িজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না।” এই মন্তব্য করে ইরান ইঙ্গিত দিতে চেয়েছিল যে, পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেই সমস্ত দেশে ফের হামলা চালাবে তারা। সেই মতোই পশ্চিম এশিয়ার তিন দেশে হামলা চালাল ইরান।