বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার চলছে জোরকদমে। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, আদিবাসী বৌদ্ধ প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীনও হচ্ছেন তাঁরা। বেশ কয়েকটি সংগঠন দাবি তুলেছে, দেশের ১৩তম সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ-সহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আনা হোক। সেই আবহে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস বিভাগের তরফে শুক্রবার জানানো হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ১৬টি দেশ থেকে ৫৭ জন পর্যবেক্ষক আসবেন।
রাঙ্গামাটি আসনের নির্দল বৌদ্ধ প্রার্থী পহেল চাকমা এবং খাগড়াছড়ি আসনের ধর্মজ্যোতি চাকমাকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাঁদেরই নয়, হুমকি দেওয়া, ভীতিপ্রদর্শন করা হচ্ছে ওই নির্দল প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদেরও। তাঁদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এই প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এরা সরকার সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর উপরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অভিযোগ করেছে, খাগড়াছড়ি জেলার লোগাং ইউনিয়নের দুদুকছড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পিসিজেএসএস-এর প্রায় ৭৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার মোতায়েন করেছে। তাদের দাবি, এই ভাবে আদিবাসীদের উপরে চাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ভোট দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, বৌদ্ধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়ো প্রচারের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা দিলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয়। রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপের পরিচালক সুহাস চাকমা বলেন, ‘‘পিসিজেএসএস সরকার সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। গত ৫ জুন ত্রিপুরার আগরতলায় তাদের ১৩ জন ক্যাডার গ্রেফতার হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গুয়াহাটি হাই কোর্ট ২০১৩ সালে একটি মামলায় রায় দেওয়ার সময় পিসিজেএসএস-কে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।’’ সুহাসদের দাবি, অবিলম্বে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পাঠানো হোক।
আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, দ্বিপাক্ষিকস্তরে পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ১৪ জন প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। তুরস্ক থেকে আসছে পার্লামেন্টের ১২ সদস্যের একটি দল। এ ছাড়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন, পাকিস্তান থেকে ৩ জন এবং ভুটান, মলদ্বীপ, ফিলিপিন্স, জর্ডন, জর্জিয়া, রাশিয়া, কিরঘিজস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন করে এবং শ্রীলঙ্কা, ইরান ওউজবেকিস্তান থেকে ১ জন করে পর্যবেক্ষক আসার কথা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)