Advertisement
E-Paper

খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে কফিনের পাশে তিন পুত্র! নেই উত্তরাধিকারী মোজতবা, নিরাপত্তাই কি অনুপস্থিতির কারণ?

২৮ ফেব্রুয়ারি ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় প্রাণ গিয়েছিল খামেনেইয়ের। মার্চ মাসে তাঁর পুত্র মোজতবাকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকে আর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ২১:০২
খামেনেইয়ের শেষকৃত্য়ে তাঁর তিন পুত্র।

খামেনেইয়ের শেষকৃত্য়ে তাঁর তিন পুত্র। ছবি: সংগৃহীত।

তেহরানে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। রবিবার অন্ত্যেষ্টির প্রার্থনায় উপস্থিত হলেন তাঁর তিন পুত্রও। অনুপস্থিত শুধু তাঁর উত্তরাধিকারী মোজতবা আলি খামেনেই। ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে তিনি যে বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন না, তা আগেই জানানো হয়েছিল ইরানের তরফে। কিন্তু তার পরেও তৈরি হয়েছে জল্পনা। কারণ, মোজতবাকে খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করার পরে কখনওই প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। প্রশ্ন উঠতে শুরু করল, কোথায় রয়েছেন তিনি, এখন কী অবস্থা তাঁর। শুধুই কি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, না কি অন্য কিছু?

রবিবার ইরানের রাজধানী তেহরানের খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসল্লাতে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে খামেনেইয়ের কফিনের পাশে রাখা রয়েছে হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১৪ মাসের নাতনির কফিনও। প্রার্থনা কর্মসূচিতে বাবার কফিনের পাশেই তিন পুত্র মোস্তফা, মেসাম, মাসুদ খামেনেইকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ইরানের সরকারি চ্যানেলেই সেই ছবি, ভিডিয়ো প্রকাশিত হয়েছে। একটি ভিডিয়োতে প্রার্থনার করার সময় খামেনেইয়ের পুত্র মাসুদের চোখে জল দেখা গিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ আহমাদ বাহিদিকেও দেখা গিয়েছে সেখানে। নেই শুধু মোজতবা।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় প্রাণ গিয়েছিল খামেনেইয়ের। মার্চ মাসে তাঁর পুত্র মোজতবাকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকে আর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আমেরিকার হামলায় তাঁর বাবা নিহত হয়েছিলেন, প্রাণ হারিয়েছিলেন মোজতবার স্ত্রী জ়াহরা হাদাদ-আদেল এবং তাঁদের কিশোর পুত্রও। গত সপ্তাহে তাঁদের দু’জনের শেষকৃত্য ছিল। সেখানেও অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা।

সূত্রে খবর, ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবাও। তাঁর ঘনিষ্ঠদের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলায় খামেনেই পুত্রের একটি বা হয়তো দু’টি পা গুরুতর জখম হয়েছে। তার মুখেও আঘাত লেগেছিল। প্রকাশ্যে না আসার অন্যতম কারণ হতে পারে সেই জখম। মহম্মদ হোসেন খোশভাঘত ইরানের আনসাফ নিইউজ়কে জুন মাসে জানিয়েছিলেন, সে দেশের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে প্রকাশ্যে আসতে বারণ করেছে নিরাপত্তা সংস্থা। এমনকি, কণ্ঠস্বর প্রকাশ করতেও বারণ করেছে। এই হোসেনের বোনের সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে খামেনেইয়ের পুত্র মোস্তাফার।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, আইআরজিসি-র দুই আধিকারিক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিলে সেখানেই মোজতবাকে খুনের চেষ্টা করতে পারে ইজ়রায়েল। সে কারণে তাঁকে বারণ করেছে নিরাপত্তা সংস্থা। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে আসা বহু মানুষের আশা ছিল, নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে এক বার চোখের দেখা দেখতে পারবেন তাঁরা। তবে এক কথায় সকলেই মেনে নিচ্ছেন, মোজতবার নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার পর্যন্ত তেহরানে রাখা থাকবে খামেনেইয়ের দেহ। মঙ্গলবার কুমে নিয়ে যাওয়া হবে কফিনগুলি। বুধবার ইরাকের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার খামেনেইয়ের নিজের শহর, উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশাদে হবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সেখানেই সমাধিস্থ করা হবে খামেনেই ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy