Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

সন্ত্রাসে উৎসাহ দেওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা অনুদান বাতিল করল বিরক্ত আমেরিকা

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে পা রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পর থেকে যত দিন গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে

সংবাদ সংস্থা
ওয়াশিংটন ২১ নভেম্বর ২০১৮ ১৭:৫৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
সন্ত্রাসে মদত দেওয়াতেই অনুদান বাতিল পাকিস্তানের।—ফাইল চিত্র।

সন্ত্রাসে মদত দেওয়াতেই অনুদান বাতিল পাকিস্তানের।—ফাইল চিত্র।

Popup Close

ফের পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ অনুদান বাতিল করল মার্কিন সরকার। এতদিন নিরাপত্তা বাবদ ইসলামাবাদকে ১৬৬ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিত তারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সেটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার পেন্টাগনের তরফে সেই মর্মে নির্দেশ জারি করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাদের মুখপাত্র কর্নেল রব ম্যানিং বলেন, ‘‘নিরাপত্তা খাতে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৬ কোটি বাতিল করা হল।’’

বারাক ওবামা সরকারের আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং মধ্য এশিয়া প্রতিরক্ষা বিভাগের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ছিলেন ডেভিড সিডনি। অ্যাবটাবাদের বাড়িতে ঢুকে ওসামা বিন লাদেনকে যখন হত্যা করা হয়, তখন পেন্টাগনের সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ‘‘একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেনি পাকিস্তান। উল্টে বেশ কিছু সন্ত্রাসী সংগঠনকে উৎসাহ জুগিয়েছে তারা। পড়শি দেশগুলিতে নাশকতামূলক হামলায় মদত জুগিয়েছে। সন্ত্রাস দমনে মার্কিন সরকারকে কোনওরকম সহযোগিতাই করেনি তারা। শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নন, তাদের এমন আচরণে বিরক্ত মার্কিনবাসীও। তাই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে একে একে বেশ কিছু অনুদান বাতিল করা হয়েছে। তাই বলে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টকে অবজ্ঞা করছে না মার্কিন সরকার। কিন্তু তাদের সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়া জরুরি ছিল যে, শুধুমাত্র নিজেদের ফায়দা দেখলে চলবে না। বাকিদের যন্ত্রণা লাঘবেও উদ্যোগী হতে হবে।’’

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে পা রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পর থেকে যত দিন গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের তত অবনতি ঘটেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। সোমবার টুইটারে কড়া ভাষায় পাকিস্তানকে আক্রমণ করেন তিনি। পুরনো উদাহরণ টেনে বলেন, ‘‘বরাবর সন্ত্রাসে মদত জুগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। দেশের মাটিতে জায়গা ছেড়ে দিয়েছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে। নইলে নিশ্চিন্তে অ্যাবটাবাদে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারত ৯/১১-এর মূল চক্রী ওসামা বিন লাদেন? পাক সেনাই তো ওকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল! নইলে অনেক আগেই লাদেনের নাগাল পেয়ে যেতে পারতাম আমরা। পাকিস্তানই তা হতে দেয়নি। আমাদের থেকে প্রচুর অর্থ নিয়েছে ওরা। কিন্তু লাদেনের সে দেশে ঘাঁটি গেড়ে থাকার কথা বেমালুম চেপে গিয়েছে। এতদিন ধরে শুধু বোকা বানিয়ে গিয়েছে আমাদের।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: আন্দামানের নিষিদ্ধ দ্বীপে ঢুকে আদিবাসীদের হাতে প্রাণ হারালেন মার্কিন পর্যটক​

আরও পড়ুন: আত্মবিশ্বাস নেই বিজেপির, কিন্তু কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার কারণ খুঁজছে মালওয়া-নিমাড়​

তাঁর মন্তব্য ভালভাবে নেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টুইটারে ট্রাম্পকে পাল্টা আক্রমণ করে বসেন তিনি। বলেন, ‘‘নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে খামোখা পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা করছে আমেরিকা। ১ লক্ষ ৪০ হাজার ন্যাটোবাহিনী এবং ২ লক্ষ ৫০ হাজার আফগান সেনা নিয়ে তো তালিবানদের রুখতে গিয়েছিল ওরা। কোটি কোটি ডলার খরচ করেছিল। কিন্তু কিছু করতে পেরেছে কি? বরং আগের চেয়েও শক্তি বেড়েছে তালিবানের। ৯/১১ হামলায় কোনও পাকিস্তানি জড়িত ছিল না। তা সত্ত্বেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ে সামিল হয়েছি আমরা। ৭৫ হাজার পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’

ইমরানের মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা চলছে এখনও। তারমধ্যেই আচমকা অনুদান বাতিলের ঘোষণা করল পেন্টাগন। এতে দু’দেশের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়বে বই কমবে না। কারণ এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রতিরক্ষা বাবদ পাকিস্তানকে দেওয়া ৩০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান বাতিল করে ট্রাম্প সরকার। তার আগে, বছরের শুরুতে আরও ৫০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement