Advertisement
E-Paper

শান্তিচুক্তি না-হলে হরমুজ় থেকে শুল্ক আদায়ের কথা ভাববেন! অদ্ভুত হুমকির ট্রাম্পীয় ব্যাখ্যাও দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট

শনিবারই ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ় দিয়ে জাহাজ পারাপার আপাতত বন্ধ রাখছে তারা। ইরানের হরমুজ় বন্ধ করার ঘোষণা নিয়ে যদিও ট্রাম্প কোনও মন্তব্য করেননি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১২:৩২
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

হরমুজ় প্রণালী পারাপারের জন্য আপাতত কোনও শুল্ক দিতে হবে না। ৬০ দিনের যে যুদ্ধবিরতি রয়েছে, ওই সময়ে এই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন না হলে হরমুজ়ে শুল্ক আরোপ করতে পারে আমেরিকা। ‘পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির অভিভাবক হিসাবে যে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে’, তার জন্যই এই শুল্ক নেবে আমেরিকা। সমাজমাধ্যমে এমন হুঁশিয়ারিই দিলেন ট্রাম্প। তবে ইরানের হরমুজ় বন্ধ করার ঘোষণা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

লেবাননে ইজ়রায়েলের লাগাতার হামলার কারণে শনিবার হরমুজ় আবার বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইরান। তবে এর মধ্যেই সুইৎজ়ারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য পৌঁছে গিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। সেই আবহে শনিবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ়ে এ বার শুল্ক আরোপ করতে পারে আমেরিকা। তিনি লিখেছেন, ‘‘যুদ্ধবিরতির সময়ে ৬০ দিন হরমুজ়ে কোনও শুল্ক আদায় করা হবে না। ওই ৬০ দিন পেরিয়ে গেলেও শুল্ক আরোপ করা হবে না, যদি না তা আমেরিকার দ্বারা, আমেরিকার জন্য করা হয়। চুক্তি সম্পন্ন না হলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে অভিভাবক হিসাবে যে পরিষেবা আমেরিকা অতীতে দিয়েছে, বা এখন দিচ্ছে এবং দেবে, তার জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারে।’’ মনে করা হচ্ছে, পশ্চিমের দেশগুলিতে আমেরিকার সেনাঘাঁটি রয়েছে, তার বিনিময়ে শুল্ক আরোপ করতে চাইছেন ট্রাম্প।

শনিবারই ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ় দিয়ে জাহাজ পারাপার আপাতত বন্ধ রাখছে তারা। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চুক্তি না মেনেই লেবাননের দক্ষিণে হিজ়বুল্লাদের নিশানা করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। অন্তত ২০টি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। তার পরেই ইরান জানিয়ে দেয়, ‘শত্রুপক্ষকে’ জবাব দিতে বন্ধ করা হল হরমুজ়।

ইরানের সরকারি চ্যানেল সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতর খাতাম-আল-আনবিয়ার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে না। শত্রুরা যে চুক্তি ভেঙেছে, তার জবাব দিতে প্রথম পদক্ষেপ করা হল। এ ভাবে হামলা চলতে থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ পরিকল্পনা করা হবে। শত্রুদের চুক্তি মানতে বাধ্য করা হবে।’’ ইরানের নৌবাহিনীও এই পদক্ষেপের জন্য লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলাকেই দায়ী করেছে।

ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির শর্তের অংশ হিসাবেই শুক্রবার বিকেল ৪টেয় (স্থানীয় সময়) থেকে ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইজ়রায়েল সরকার এবং হিজ়বুল্লাও তাতে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু রাত গড়াতেই ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় স্থলপথে হামলা চালায়। তার পরেই হরমুজ় বন্ধের ঘোষণা করে তেহরান। এ বার ট্রাম্প সেখানে পাল্টা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা, ইজ়রায়েল। পাল্টা পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে তাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানও। অবরুদ্ধ করে হরমুজ়। গত এপ্রিল হরমুজ়ে পাল্টা প্রহরা বসায় আমেরিকা। তার ফলে ওই প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বিপাকে পড়ে। বিশ্বের বাজারে দাম বাড়ে জ্বালানির। দীর্ঘ টালবাহানার পরে চুক্তিতে সম্মত হয় ইরান এবং আমেরিকা। যার অন্যতম শর্ত ছিল, লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ভার্চুয়াল মাধ্যমে চুক্তি সই হওয়ার পরে আবার লেবাননে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। তার পরেই হরমুজ় বন্ধ করার ঘোষণা করে ইরান। এ বার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকাও।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy