শিবসেনায় ভাঙন ধরেছিল আগেই। এ বার উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনাতেও ভাঙন আসন্ন হয়ে পড়েছে। দলের ন’জন সাংসদের মধ্যে ছ’জনই ‘বিদ্রোহী’। ইতিমধ্যে তাঁরা দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। সূত্রের খবর, রবিবারই ভাঙন চূড়ান্ত করে দেবেন তাঁরা। মুম্বইয়ে একসঙ্গে ছ’জনই বসতে পারেন সাংবাদিক বৈঠকে।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ধাঁচে মহারাষ্ট্রে উদ্ধবসেনায় ভাঙন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ায় বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে কেন্দ্রের বিজেপিবিরোধী শিবিরে। কংগ্রেসের কপালেও তা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিতর্কের মাঝে শুক্রবারই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তায় উদ্ধব জানিয়ে দেন, তিনি নেতৃত্ব ছাড়তে চান। যে কোনও যোগ্য কর্মীর হাতে দল তুলে দিতে তিনি প্রস্তুত। বিদ্রোহী সাংসদদের জন্য তাঁদের লোকসভা কেন্দ্রের ভোটারদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, রবিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছয় বিদ্রোহী সাংসদ মুম্বইয়ে যাচ্ছেন। অন্তত দু’জন যাচ্ছেন কলকাতা থেকে। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা ‘বিদ্রোহের কারণ’ ব্যাখ্যা করতে পারেন। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি এবং ভিডিয়ো প্রকাশ করতে পারেন। কোন চিঠি তাঁরা স্পিকারকে দিয়েছেন, তা-ও প্রকাশ্যে আনতে পারেন। সূত্রের দাবি, বিদ্রোহীরা প্রত্যেকেই যোগ দিতে চলেছেন একনাথ শিন্দের শিবসেনা শিবিরে। স্পিকারকে চিঠিতে সে কথা তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি, সংসদে আসন বিন্যাস পরিবর্তনের আবেদনও জানানো হয়েছে স্পিকারের কাছে।
আরও পড়ুন:
উদ্ধব শিবিরের বিদ্রোহীদের মধ্যে রয়েছেন নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে। সূত্রের খবর, তাঁরা স্পিকারকে জানিয়েছেন, উদ্ধবের শিবসেনা বাল ঠাকরের পুরনো মতাদর্শ ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আগামী দিনে তারা কংগ্রেসে মিশে যাবে। তাই তাঁরা দল ছাড়তে চান। সেই জল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন উদ্ধব নিজেই। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
চার বছর আগে ২০২২ সালে শিবসেনা প্রথম বার ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা বালসাহেব ঠাকরের পুত্র উদ্ধবের নেতৃত্ব অস্বীকার করে বিজেপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন একনাথ। বিজেপিতে যোগ দেননি, বরং উদ্ধবের হাত থেকে তিনি ছিনিয়ে নেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রিত্ব, দলের নাম এবং ‘তির-ধনুক’ প্রতীক। চার বছরের মাথায় ফের সেই দল ভাঙতে চলেছে। নেপথ্যে অভিযুক্ত সেই একই ব্যক্তি— একনাথ। মহারাষ্ট্রে এই দল ভাঙানোর খেলাকে ‘অপারেশন টাইগার’ বলা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। উদ্ধবের ডাকা একটি বৈঠকে দলের ছয় সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। তার পরেই শোনা যায়, তাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন শহর থেকে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে। একই সময়ে দিল্লি যান একনাথও। দুইয়ে দুইয়ে চার করতে আর সমস্যা হয়নি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি। রবিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটাতে পারেন বিদ্রোহীরাই।