Advertisement
E-Paper

‘কুকুর বনাম নেকড়ে’ তরজায় সরগরম মরাঠা রাজনীতি! সঞ্জয়কে জবাব দিলেন শিন্দে, সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে উদ্ধবসেনার

শিন্দে শনিবার বলেন, শিন্দের মন্তব্য, ‘‘আমাদের যাত্রা এখনও অনেক বাকি। এটি একটি ‘ট্রেলার’ মাত্র। আসল ছবি এখনও সামনে আসেনি। শিবসেনা কোনও নির্দিষ্ট নেতার নয়। দলের প্রতিটি কর্মী ও মরাঠি আমজনতার।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১২:৫৪
(বাঁদিক থেকে) উদ্ধব ঠাকরে, সঞ্জয় রাউত এবং একনাথ শিন্দে।

(বাঁদিক থেকে) উদ্ধব ঠাকরে, সঞ্জয় রাউত এবং একনাথ শিন্দে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি)-তে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই এ বার নতুন বিতর্ক তৈরি হল মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে। উদ্ধব শিবিরের রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় রাউত শনিবার সকালে সমাজমাধ্যমে ‘জয় মহারাষ্ট্র’ শিরোনাম দিয়ে লিখলেন, ‘‘কিছু মানুষ কুকুরের মতো হতে পারেন, কিন্তু তাঁরা বিশ্বস্ত নন।” কিছুক্ষণের মধ্যেই জবাব এল শিবসেনা প্রধান তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের তরফে। বললেন, ‘‘কিছু মানুষ ক’দিন ধরেই ঘেউঘেউ করছেন। কুকুররা দল বেঁধেই ঘেউঘেউ করে, কিন্তু বাঘ একাই শিকার করে।” এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘বাঘের চামড়া পরলেই নেকড়ে কিন্তু বাঘ হয়ে যায় না।’’

চার বছর আগেই টুকরো হয়েছিল দল। শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র উদ্ধবের হাত থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রিত্ব এমনকি, দলের নাম আর ‘তির-ধনুক’ নির্বাচনী প্রতীকও ছিনিয়ে নিয়েছিলেন বিদ্রোহী একনাথ শিন্দে। বর্তমানে উদ্ধবসেনার ন’জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ছ’জনই শিন্দে শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন বলে জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধবশিবির বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে তাদের দফতরেই সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিল। সকলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক জানিয়ে জারি হয়েছিল ‘হুইপ’। সেখানে দলের রাজ্যসভার একমাত্র সাংসদ সঞ্জয় রাউত ও লোকসভার তিন সাংসদ— অরবিন্দ সবন্ত, অনিল দেশাই এবং রাজাভাউ ওয়াজ়ে হাজির ছিলেন।

উদ্ধবসেনার বাকি ছ’জন লোকসভা সাংসদ— নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা স্পিকারকে জানিয়েছেন, উদ্ধবের শিবসেনা বাল ঠাকরের পুরনো মতাদর্শ ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আগামী দিনে তারা কংগ্রেসে মিশে যাবে। তাই তাঁরা দল ছাড়তে চান। যদিও শুক্রবার কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি নস্যাৎ করেছেন উদ্ধব। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘যদি আমরা ৩০ বছর বিজেপির সঙ্গে থেকেও তাদের সঙ্গে মিশে না-যাই, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাব কেন?’’ উদ্ধবের কথায়, ‘‘অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে শিবসেনার রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, তারা কখনও ‘মাতশ্রীকে’ (উদ্ধবদের বাসভবন) অপমান করেনি। নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।’’ সেই সঙ্গে প্রয়োজনে দলনেতার পথ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলেও জানান।

রাউথ শনিবার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের সংসদীয় দলের বৈঠকে যে সাংসদেরা অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়েছে। তাঁর ঘোষণা ‘‘দল তাঁদের সাংসদ পদ বাতিলের জন্য পদক্ষেপ করবে। যদি লোকসভার স্পিকার নিয়ম, আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন, তা হলে এই সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, উদ্ধবসেনার দুই-তৃতীয়াংশ লোকসভা সাংসদ যদি শিন্দেসেনায় যোগ দেন, তা হলে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের সম্ভাবনা নেই। দলত্যাগ বিরোধী আইন বলছে, কোনও রাজনৈতিক দলের টিকিটে নির্বাচিত সাংসদ-বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সদস্য মনে করলে অন্য দলে যোগ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে না। তাঁরা সংসদে নিরপেক্ষ ভাবে বা সংশ্লিষ্ট দলের নামে বসতে পারবেন।

সম্ভবত, সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই শনিবার আত্মবিশ্বাসী শিন্দের মন্তব্য, ‘‘আমাদের যাত্রা এখনও অনেক বাকি। এটি একটি ‘ট্রেলার’ মাত্র। আসল ছবি এখনও সামনে আসেনি। শিবসেনা কোনও নির্দিষ্ট নেতার নয়। দলের প্রতিটি কর্মী ও মরাঠি আমজনতার।’’ শিন্দে যদি উদ্ধবের দলে আবার ভাঙন ধরানোর ‘অপারেশন টাইগার’-এ সফল হন, এনডিএ-র মধ্যে তাঁর প্রভাব নিশ্চিত ভাবেই বাড়বে। সে ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীস ও উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্দের মধ্যে ক্ষমতার সমীকরণেও বদল আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

Shiv Sena Uddhav Thackeray Eknath Shinde Sanjay Raut Anti Defection Law
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy