Advertisement
E-Paper

‘সুপারসনিক’ ব্রহ্মস ‘হাইপারসনিক’ হচ্ছে, ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে এ বার আসছে ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন সংস্করণ

ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ জানিয়েছেন, নতুন ‘হাইপারসনিক’ ব্রহ্মসের মূল বৈশিষ্ট্য হল শত্রুপক্ষের ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’কে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না দিয়েই দ্রুত আঘাত হানার ক্ষমতা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৮:২৫
ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস।

ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস। —ছবি : সংগৃহীত

ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘সুপারসনিক’ (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস এ বার হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বা তারও বেশি দ্রুতগতির) স্তরে উন্নীত হতে চলেছে। ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ ‘দ্য ইকনমিক টাইমস’-কে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। ব্রহ্মসের এই নতুন সংস্করণ আকারে কিছুটা ছোট এবং ওজনে হালকা হলেও মারণক্ষমতা কমবে না বলে তাঁর দাবি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক আঘাত হানার সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করবে। প্রসঙ্গত, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে কিছুদিন আগেই জানানো হয়েছিল, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখাকে (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) জন্য বাড়তি পাল্লা ও গতিবেগ সম্পন্ন ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রুশ সেনা ইতিমধ্যেই নতুন হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ ব্যবহার শুরু করেছে। মস্কোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তা তৈরি করতে চায় নয়াদিল্লিও। ভারতীয় সেনার হাতে থাকা ‘ব্রহ্মস মার্ক-১’-এর পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার। ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’-র ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে পারে।

তবে নতুন ‘হাইপারসনিক’ ব্রহ্মসের মূল বৈশিষ্ট্য হল শত্রুপক্ষের ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’কে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না দিয়েই দ্রুত আঘাত হানার ক্ষমতা। ব্রহ্মসের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে আলিপভ জানান যে, সূচনালগ্ন থেকেই ধারাবাহিক আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়ায় মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ব্রহ্মস। প্রথমে এটি স্থলসেনার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে তার যুদ্ধজাহাজ, ডুবোজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণও প্রস্তুত করা হয়। রুশ রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, হাইপারসনিক ব্রহ্মসের যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে নয়াদিল্লিকে সমস্ত রকম প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই বার্তা পাঠিয়েছে মস্কো।

প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপু্ত্র এবং রাশিয়ার মস্কোভা নদীর নাম মিলিয়ে ‘ব্রহ্মস’ শব্দটি তৈরি করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎপাদনকারী সংস্থা ‘ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস লিমিটেড’ হল ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও) এবং রুশ প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া’-র যৌথ উদ্যোগ। বর্তমানে ভারত যে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার চারটি শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। স্থলভূমিতে স্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ (সাধারণ ভাবে সামরিক ট্রাক) উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ, সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান এবং ডুবোজাহাজ থেকে একে ছোড়া যায়। প্রথাগত বিস্ফোরকের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রটি পরমাণু হাতিয়ার বহনেও সমান ভাবে সক্ষম। ‘সুপারসনিক’ সংস্করণটির গতিবেগ শব্দের প্রায় তিনগুণ (সামরিক পরিভাষায় ‘ম্যাক-৩’)।

Russia India Defence Deal Russia BrahMos Missile Hypersonic Missile Hypersonic Weapon Supersonic Missile Cruise Missile Operation Sindoor Defence Indian Defence System
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy