শুধু যৌথ উদ্যোগে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণ কিংবা প্রযুক্তি হস্তান্তর নয়, সম্ভাব্য সংঘাত-পরিস্থিতিতে ভারত এবং রাশিয়া একে অন্যের ভূখণ্ড ও সামরিক পরিকাঠামোও ব্যবহার করতে পারবে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সই হওয়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানাল রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সেনাকর্মী ও সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি জাহাজ ও যুদ্ধবিমান একে অপরের ভূখণ্ডে পাঠানোর পদ্ধতি সম্পর্কিত চুক্তির শর্তাবলী শুক্রবার সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার জানিয়েছে, যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের মোকাবিলা এবং পারস্পরিক সম্মতিতে অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরস্পরের সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করা যাবে।
আরও পড়ুন:
এই চুক্তিতে দুই দেশের আকাশসীমার পারস্পরিক ব্যবহার এবং রাশিয়া ও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের একে অপরের বন্দর বা পোতাশ্রয়ে প্রবেশের বিষয়টিকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুতিনের ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলুসোভের বৈঠকে চূড়ান্ত হয়েছিল চুক্তির রূপরেখা। সেটি আইনগত ভাবে কার্যকর করতে গত ডিসেম্বরে সামরিক বিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছিল মস্কো। নয়াদিল্লি-মস্কো যৌথ উদ্যোগে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে তৈরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম ভারত যাতে তৃতীয় দেশে রফতানি করতে পারে, বিধি সংশোধনের মাধ্যমে তারও ছাড়পত্র দিয়েছে পুতিন সরকার।