Advertisement
E-Paper

আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণে সায় দিল না লোকসভা, মোদীর সংবিধান সংশোধনী বিল ব্যর্থ দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে

লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তা পেতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩১
Women reservation amendments bill and delimitation bill failed to get two-third majority in Lok Sabha

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ করাতে পারল না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। দু’দিনের বিতর্কপর্ব শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তা পেতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার।

বিরোধীদের ‘মুড’ আঁচ করে ভোটাভুটির আগে সরকারপক্ষের শেষ বক্তা অমিত শাহ সরাসরি বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে সাংসদ সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জোরদার সওয়ালও করেন। শাহ বলেন, ‘‘এমন লোকসভা আসন আছে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৪৮ লক্ষ। কী ভাবে সেখানকার সাংসদ ভোটদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ করবেন?’’ বিরোধীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের উপর ভরসা রাখুন। বিল পাশ করতে দিন।’’ কিন্তু শাহের আবেদন সত্ত্বেও সরকারপক্ষের রাজনৈতিক কৌশল আঁচ করে অবস্থানে অনড় থাকেন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদরা। ধৈর্যচ্যুত শাহ একসময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করতে গিয়ে কংগ্রেসের বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধীর উচিত সংসদে কী ভাবে কথা বলতে হয়, তা তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কার থেকে শেখা।’’

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা তিনটি বিলের প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ( পোশাকি নাম, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এরই অন্তর্গত), দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। তৃতীয়টি— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে)। প্রথম বিলটি পাশ না হওয়ায়, পরের দু’টি নিয়ে ভোটাভুটির পথে হাঁটেনি কেন্দ্র।

Advertisement

বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে শিখণ্ডী করে আসলে লোকসভার আসন বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি। লোকসভায় দু’দিনের বিতর্কে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা অভিযোগ তুলেছিলেন, জনগণনার আগেই সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রভাব খর্ব করে উত্তর ভারতে আসনের অনুপাত বাড়িয়ে নেওয়াই উদ্দেশ্য, যেখানে বিজেপির প্রভাব অনেক বেশি। অভিযোগ, সেই কারণেই সংবিধান সংশোধনী বিলে লোকসভার আসন বৃদ্ধির সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল লোকসভায় পেশের পর বিরোধীদের বক্তব্য ছিল, লোকসভার আসন বৃদ্ধির মতো ভিন্ন একটি বিষয়কে মহিলা সংরক্ষণ বিলের অধীনে আনা হয়েছে বিজেপির রাজনৈতিক লক্ষ্যসাধনের জন্যই। বিরোধী নেতাদের যুক্তি, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে কেন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। কেন্দ্রের তরফে কোনও সদুত্তর না মিললেও বিজেপি অবশ্য এই বিলের বিরোধিতা করার মধ্যে বিরোধীদের মহিলা আসন সংরক্ষণের বিরোধিতাই দেখেছে।

বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, জনগণনার আগে এই সংরক্ষণ কার্যকর হলে অনগ্রসর গোষ্ঠীর (ওবিসি) মহিলার বঞ্চিত হবেন। শুক্রবার বক্তৃতাপর্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি দেন, সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে। তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের (বিজেপি) ক্ষমতা কমে আসছে। সেই জন্য দেশের ভোট মানচিত্র বদলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। যেমন অসমে করেছেন। কিন্তু আমরা আপনাদের এই চেষ্টা সফল হতে দেব না। সব বিরোধী দল আপনাদের হারাবেই। আমরা ওবিসিদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেব না। আপনারা ওবিসি এবং দলিতদের হিন্দু বলেন। কিন্তু দেশে ওঁদের কোনও অধিকার দেন না। সত্যি কথা আপনাদের খুব খারাপ লাগে।’’ অন্য দিকে, ভোটাভুটি শুরুর আগেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লোকসভার সমস্ত সদস্যের উদ্দেশে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করার জন্য আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, ‘‘দেশের নারীশক্তির সেবা করার ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ। তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না!’’ তাঁর আবেদন ছিল, ‘চার দশক ধরে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রচুর রাজনীতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবশ্যই তাদের অধিকার দিতে হবে।’’ ভোটের ফল বলছে, সেই আবেদনে সাড়া দিল না লোকসভা।

Special Session of Parliament Lok Sabha Women Reservation Women Reservation Bill
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy