আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখায় শত্রু-ড্রোনের মোকাবিলায় এ বার নতুন প্রজন্মের বিমান বিধ্বংসী কামান (সামরিক পরিভাষায়, ‘এয়ার ডিফেন্স গান’) কিনতে তৎপর হল ভারতীয় সেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে ‘রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন’ পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
সীমান্ত শত্রুপক্ষের ড্রোনের অনুপ্রবেশ রুখতে ভারতীয় সেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মূল অস্ত্র সুইডেনের বফর্স সংস্থার তৈরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জমানার এল-৭০। এবং রাশিয়ার তৈরি ষাটের দশকের জ়েডইউ-২৩ বিমানবিধ্বংসী কামান। পুরনো যুগের প্রপেলার চালিত যুদ্ধবিমান ধ্বংসে দক্ষ হলেও এই স্বয়ংক্রিয় কামানগুলি আধুনিক ‘ফাইটার জেট’-এর মোকাবিলায় অক্ষম। তাই সেনায় তাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় গত ছ’-সাত ধরে সীমান্তে পাক ড্রোনের ‘গতিবিধি’র জন্য। গত কয়েক বছরে জম্মু কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) পেরিয়ে একাধিক বার ভারতীয় আকাশসীমায় পাক ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। একই ঘটনা ঘটেছে পঞ্জাব সীমান্তেও। জঙ্গিদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করতে আসা কয়েকটি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে সেনা এবং বিএসএফ। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ ৪০ মিলিমিটারের এল-৭০ বা ২৩ মিলিমিটারের জ়েডইউ-২৩-এর পক্ষে আধুনিক ড্রোন চিহ্নিতকরণ এবং ধ্বংসে সব সময় সাফল্য মেলা কঠিন।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্ব পর্যালোচনার পরে নতুন প্রজন্মের ‘এয়ার ডিফেন্স গান’ পেতে সক্রিয় হয়েছে সেনা। তাদের অনুরোধ মেনে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণের উদ্যোগ বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে। ৪ কিলোমিটার পাল্লার এল-৭০ বা আড়াই কিলোমিটার পাল্লার জ়েডইউ-২৩-এর তুলনায় নতুন অস্ত্র অনেকে দূর থেকে অনুপ্রবেশকারী ড্রোন চিহ্নিত করতে পারবে। এতে ভ্রাম্যমাণ রেডার, ‘ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম’ থাকবে। ফলে নতুন প্রজন্মের ‘এয়ার ডিফেন্স গান’ দিনে-রাতে, সব ধরনের আবহাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শত্রু-ড্রোন শনাক্ত, নিশানা এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, মাইক্রোলাইট এয়ারক্র্যাফট্, প্যারা-মোটর এবং প্যারাগ্লাইডারের মতো অপ্রচলিত আকাশযান এমনকী, স্বল্পপাল্লার রকেট ধ্বংস করতেও কার্যকর হবে এই ব্যবস্থা।