এ বার একই দিনে তিন শ্রেণির রণতরী ভারতীয় নৌসেনার হাতে আসতে চলেছে। যার মধ্যে দু’টির নির্মাতা এ রাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়াতে সক্ষম ‘স্টেলথ্ ফ্রিগেট’ আইএনএস দুনাগারি, অগভীর জলে চলাচল করতে সক্ষম ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী রণতরী আইএনএস অগ্রয় এবং সমুদ্র গবেষণা ও নজরদারি জাহাজ আইএনএস সংশোধক রয়েছে এই তালিকায়।
নৌসেনা জানিয়েছে, ‘আইএনএস দুনাগিরি’ নীলগিরি গোত্রের পঞ্চম ফ্রিগেট। ‘প্রকল্প ১৭ আলফা ফ্রিগেট’-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট রণতরীটি নির্মাণ প্রক্রিয়া রেকর্ড ৮০ মাস সময়ে শেষ করা হয়েছে। ১৪৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ৬,৬৭০ টন ওজনের ওই যুদ্ধজাহাজের অস্ত্রসম্ভারের মধ্যে রয়েছে, ভারত-রুশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান এবং ২০০-রও বেশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার অবদানে নির্মিত এই ফ্রিগেটটি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ‘আত্মনির্ভরতা’র অন্যতম উদাহরণ। সর্বোচ্চ ২৮ নটিক্যাল মাইল (অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২ কিলোমিটার) বেগে ছুটতে পারে এই যুদ্ধজাহাজ। স্টেলথ্ প্রযুক্তির সাহায্যে ‘আড়ালে থেকে’ সমুদ্রের বুকে ৫,৫০০ নটিক্যাল মাইল জুড়ে চালাতে পারে নজরদারি।
আইএনএস অগ্রয় হল অর্নালা শ্রেণির চতুর্থ ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী রণতরী। ৭৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জাহাজটি ওয়াটারজেট দ্বারা চালিত। হালকা টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার এবং অগভীর জলের কর্মক্ষম সোনার (শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ সন্ধানী যন্ত্র) দিয়ে সজ্জিত। ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ উপকূলীয় নজরদারি এবং মাইন চিহ্নিতকরণেও দক্ষ। তৃতীয় জাহাজ আইএনএস সংশোধক হাইড্রোগ্রাফিক এবং সমুদ্রবিজ্ঞান সংক্রান্ত মিশনের জন্য নকশা করা হয়েছে। ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩,৪০০ টন ওজনের এই জাহাজে নজরদারির জন্যেও উন্নত সরঞ্জাম রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, সমুদ্রের গভীরে চলাচলে সক্ষম ‘অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল্স’ , দূরনিয়ন্ত্রিত যান ‘রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল্স’ এবং নজরদারি যন্ত্র ‘ডিজিটাল সাইড-স্ক্যান সোনার’। সন্ধায়ক শ্রেণির চতুর্থ জাহাজটি প্রতিরক্ষা ছাড়াও, নৌ-চলাচলের পথ মানচিত্রায়ন এবং সমুদ্রতলের তথ্য সংগ্রহের মতো বেসামরিক কাজও করতে পারবে।
আরও পড়ুন:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, একই সঙ্গে চিন এবং পাকিস্তানের হামলা মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌসেনার হাতে যাতে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ) থাকে, সে বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রাডার নজরদারি প্রতিরোধী ‘স্টেলথ টেকনোলজি’-যুক্ত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার, কর্ভেট গোত্রের রণতরী, ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী জলযান, ‘মাইন কাউন্টার মেজার ভেসেল’-এর মতো ছোট জলযান এবং ডুবোজাহাজ নির্মাণের উপর। সেই প্ররিকল্পনারই অন্যতম অঙ্গ হল এই তিন জাহাজ। বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনায় প্রায় ১৪০টি জলযান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ডিজ়েল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন। যার ১১টি বেশ পুরনো। এ ছাড়া রয়েছে, দু’টি এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত এবং পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রযুক্ত) ডুবোজাহাজ। রয়েছে দু’টি বিমানবাহী রণতরীও। এ ছাড়া, ভারতীয় নৌসেনায় ২৫০টিরও বেশি বিমান এবং হেলিকপ্টারও রয়েছে। আগামী এক দশকে জল ও আকাশযান প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়াতে চাইছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।