Advertisement
E-Paper

ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, পা ভাঙল কানাডার মিডফিল্ডারের! নাটকীয় ম্যাচে কাতারের হার, দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো, জয় সুইৎজ়ারল্যান্ডের

বিশ্বকাপে বড় ব্যবধানে জয় পেল সুইৎজ়ারল্যান্ড এবং কানাডা। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল মেক্সিকো। ড্র হল দক্ষিণ আফ্রিকা-চেকিয়া ম্যাচ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৮:৪০
picture of football

জোনাথন ডেভিড। ছবি: রয়টার্স।

কানাডা - ৬

কাতার - ০

গত বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে ৬-০ ব্যবধানে হারাল এ বারের অন্যতম আয়োজক কানাডা। এই ম্যাচে ঘটেছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ৫২ মিনিটে কানাডার ইসমায়েল কোনকে পিছন থেকে কড়া ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। কাতরাতে থাকা কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। মাঠেই কিছুক্ষণ তাঁর প্রাথমিক শুশ্রূষার পর স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিডফিল্ডারের পরিস্থিতি দেখে কেঁদে ফেলেন কানাডার কোচ জেসে মার্চ।

প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মাদিবো। পরে ‘ভার’এর হস্তক্ষেপে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এই ঘটনার জন্য মাদিবোকেও অনুশোচনায় ভুগতে দেখা যায় মাঠে। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। এর পর কাতারকে খেলতে হয় ন’জনে। কারণ আগেই ৩৩ মিনিটে বিশ্রি ফাউল করায় লাল দেখেন কাতারের হোমাম আহমেদ।

১০ জনের কাতারের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কানাডা। প্রতিপক্ষ ন’জন হয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় কানাডা। আরও তিন গোল দেয় তারা। প্রথমার্ধে কানাডার তিন গোলের দু’টি জোনাথন ডেভিডের, একটি কাইল লারিনের। ম্যাচের শুরু থেকেই কাতারের রক্ষণকে চাপে রেখেছিল কানাডা। ১৬ মিনিটে প্রথম গোল করেন লারিন। ২৯ মিনিটে ও প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় গোল করেন ডেভিড। প্রথমার্ধেই কানাডার জয় একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের এক দম শেষ মুহূর্তে দলের হয়ে ষষ্ঠ গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ডেভিড। এর মাঝে ৬৪ মিনিটে কানাডার হয়ে চতুর্থ গোল করেন নাথান সালিবা। তিনি মাঠে নেমেছিলেন কোনের পরিবর্তে। গোল করার পর মারাত্মক চোট পাওয়া সতীর্থের জার্সি তুলে ধরেন সালিবা। কানাডার পঞ্চম গোলটি ৭৫ মিনিটে। কাতারের মহম্মদ মানাই আত্মঘাতী গোল করে দলকে আরও বিপদে ফেলে দেন।

লড়াই করেও হার দক্ষিণ কোরিয়ার

মেক্সিকো – ১

দক্ষিণ কোরিয়া - ০

মেক্সিকোকে গোটা ম্যাচে চাপে রেখেও পয়েন্ট পেল না দক্ষিণ কোরিয়া। ৫০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিমের একটি ভুলের মাসুল দিতে হল এশিয়ার অন্যতম সেরা দলকে। বক্সে ভেসে আসা বল লাফিয়ে গ্রিপ করতে ভুল করেননি তিনি। কিন্তু মাটিতে পড়ার সময় বল বেরিয়ে যায় কিমের হাত থেকে। সামনেই থাকা মেক্সিকোর লুইস রোমো গোল করতে ভুল করেননি। পর পর দু’ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসাবে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল মেক্সিকো।

দক্ষিণ কোরিয়াকে আটকাতে পাঁচ জন ডিফেন্ডার এবং এক জন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ব্যবহার করে শুরু থেকেই বক্সের সামনে দেওয়াল তুলে দিয়েছিলেন মেক্সিকোর কোচ। অধিকাংশ সময় বলের দখল নিয়ন্ত্রণে রেখেও অ্যাটাকিং থার্ডে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন কোরীয় ফুটবলারেরা। কখনও কখনও মেক্সিরকোর আট জন মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন। কোরীয়দের বক্সের মধ্যে ঢুকতেই দিচ্ছিলেন না। একটা সময় কোরিয়ার ফুটবলারেরা নিজেদের অর্ধে বল দেওয়া নেওয়া করে মেক্সিকোর ফুটবলারদের উপরে তুলে এনে ডিফেন্স সংগঠন ভাঙার চেষ্টা করেন। তা-ও লাভ হয়নি। বরং প্রতি আক্রমণ নির্ভক ফুটবল খেলে মাঝে মাঝে কোরিয়ার বক্সে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছিল মেক্সিকো।

৮৭ মিনিটে দিনের সহজতম সুযোগটি কোরিয়ার ফুটবলারেরা নষ্ট না করলে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত তারা। কৃতিত্ব দিতে হবে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল র‌্যাঙ্গেলকে। কোরিয়ার ইয়োম ছয় গজের ভাল জায়গায় বক্সে বল দেন। চো ড্রপ হেড করেন। বল আটকালেও ধরতে পারেননি র‌্যাঙ্গেল। মাটিতে পড়ে যান তিনি। ফিরতি বল উঁচু করে প্রায় অরক্ষিত গোলে ঠেলে দেন কোরিয়ার আর এক ফুটবলার। মাটিতে বসেই শরীর ছুড়ে দিয়ে বল আটকে দেন র‌্যাঙ্গেল। দু’দলই গোলের বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে।

বড় জয় সুইৎজ়ারল্যান্ডেরও

বসনিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারাল সুইৎজ়ারল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ। বলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। অগণিত সুযোগ তৈরি। এত কিছু করেও বসনিয়াকে কিছুতেই বাগে আনতে পারছিল না সুইৎজ়ারল্যান্ড। সব চিত্র বদলে গেল কোচ মুরাত ইয়াকিনের একটি সিদ্ধান্তে। ৭০ মিনিটের মাথায় তিনি তিনটি বদল করলেন। তাতেই কাজ হল জাদুর মতো। শেষ ২০ মিনিটে চারটি গোল করে বসনিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইৎজ়ারল্যান্ড। জোড়া গোল করে নায়ক ‘সুপার সাব’ জোহান মানজ়াম্বি।

ইটালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আসা বসনিয়া যে সহজে ছেড়ে দেবে না তা বোঝাই গিয়েছিল। সুইৎজ়ারল্যান্ড কিছুতেই ফাঁক খুঁজে পাচ্ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা যায় একই ছবি। সব বদলে গেল ৭০ মিনিটে। মানজ়াম্বি ছাড়াও রুবেন ভারগাস এবং জিব্রিল সো-কে নামান সুইস কোচ ইয়াকিন। মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করেন মানজ়াম্বি। সুইৎজ়ারল্যান্ডের একটি আক্রমণ থেকে জোরালো সাইড ভলিতে বল জালে জড়ান। এর কিছু ক্ষণ পর লাল কার্ড দেখেন বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ। নিশ্চিত গোলের সামনে থাকা ব্রিল এমবোলোকো ফাউল করেন তিনি। ওই লাল কার্ড খেলা আরও বদলে দেয়। কিছু ক্ষণ পরেই গোল করেন আর এক পরিবর্ত খেলোয়াড় ভারগাস। ডান দিক থেকে এমবোলোর পাস পেয়ে চলতি বলে শট নিয়ে গোল করেন। নির্ধারিত সময়ের খেলার শেষ মিনিটে আরও একটি গোল করেন মানজ়াম্বি। নাটক তখনও শেষ হয়নি। সংযুক্তি সময়ের তৃতীয় মিনিটে একটি গোল শোধ করে বসনিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার-চেকিয়া ড্র

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেকিয়া মুখোমুখি হয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতে। দুই দলের ম্যাচ ১-১ অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হল। ফলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে থাকল না কেউই। দু’দলই প্রথম ম্যাচ হেরেছিল। প্রথমার্ধে জমাটি ফুটবল দেখা না গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে মন জয় করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলা।

ম্যাচের শুরু থেকে চেকিয়া অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়ে নেমেছিল। তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে কিছুটা সাবধানি ভাব লক্ষ করা গিয়েছে। যোগ্য দল হিসাবেই ছ’মিনিটে এগিয়ে যায় চেকিয়া। লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়েছিলেন আলেকজান্ডার সোজকা। তাঁর থেকে বল পেয়ে গোল করেন মিকাল সাদিলেক। গোলের পর বেশ কিছু ক্ষণ চাপ বজায় রেখেছিল চেকিয়া। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও জিততে হত। কিন্তু তাদের খেলাতেও এমন কিছু দেখা যায়নি যাতে মনে হয়েছে জিততে পারে। চেকিয়ার পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলছিল। কিন্তু সুযোগ তৈরি করার ব্যাপারে দুই দলই ছিল সমান জায়গায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার খেলা। অনেক বেশি আক্রমণে উঠতে থাকে তারা। কয়েকটি সুযোগ নষ্টের পরশেষ দিকে আক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর তখনই চলে আসে সুযোগ। বক্সের মধ্যে পাভেল সুলচের হাতে বল লাগে। পেনাল্টি থেকে তেবোহো মোকোয়েনা গোল করতে ভুল করেননি।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ
১৭ ঘণ্টা আগে
Mexico Canada South Korea Switzerland South Africa
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy