ধবার ফ্রান্সের এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ শহরে জি-৭ শীর্ষসম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকের পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি মোদীকে ‘বিশ্বের অন্যতম শীর্ষনেতা’ হিসাবে বর্ণনা করে চারটি গুণের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের মতে ওই গুণগুলিই মোদীকে অন্য ভারতীয় নেতাদের থেকে আলাদা করছে।
মোদীর যে চারটি গুণের কথা ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন সেগুলি হল— ভারতকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার ক্ষমতা, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং এমন এক নেতৃত্বের ধরন যা শান্ত স্বভাব এবং অনমনীয় দৃঢ়তার এক অনবদ্য মিশেল। জি-৭ শীর্ষসম্মেলনের পর এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে বর্তমান বিশ্বের দু’জন শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনেতার নাম জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি প্রথমে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নাম উল্লেখ করেন। এর পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম। তাঁর কথায়, ‘‘এঁরাই বর্তমানে বিশ্বের দুই শ্রেষ্ঠ নেতা।’’
পাকিস্তানের সঙ্গে ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেও ভারত যে দীর্ঘমেয়াদি কোনও যুদ্ধের শরিক হয়ে পড়েনি, তার জন্য মোদীর কুশলী নেতৃত্বগুণ প্রধান কারণ বলে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “মোদী যুদ্ধ থেকে দূরে থাকেন, যা বুদ্ধিমানের কাজ”। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওই সংযম ও সুস্থিত পদক্ষেপ তাঁর নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। শুল্কযুদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দরকষাকষি-পর্বে ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতির দেশ’ বলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু জি৭ বৈঠকের পর অবস্থান বদলে তাঁর বার্তা, “ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যান খুবই ভাল, যা গত এক দশকে মোদীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে আমার মনে হয়।’’
মোদীর নেতৃত্বেই ভারতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে মনে করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “সারা জীবন আমি ভারতকে দেখেছি। তারা শুধু পরিবর্তন করেই গিয়েছে। পরিবর্তন, পরিবর্তন, পরিবর্তন। কেউ ছ’মাসের জন্য (প্রধানমন্ত্রী পদে) থাকত। তার পরে এক বছরের জন্য। আর তার পর হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানে এসে গিয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইতি টেনেছেন।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, মোদীর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হল, ‘দৃঢ়তা ও শান্ত স্বভাবের বিরল মিশেল’। তিনি বলেন, ‘‘মোদীর মধ্যে এক অসাধারণ স্থিরতা আছে, তবু তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ নন। খুবই কঠিন মানুষ। আমি তাঁকে খুব ভাল ভাবে চিনি।” তাঁর মতে, যতদিন মোদী প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা বাড়তে থাকবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
‘বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কাজ করছি আমরা’, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জানালেন, ভারত আক্রান্ত হলে পাশে দাঁড়াবে আমেরিকা
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!