বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিল আমেরিকা। সোমবার দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের বার্তা, এখনই ইরান ছাড়ুন! কোন দুই দেশ হয়ে ইরান ছাড়া যাবে, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সতর্কবার্তায়।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিস্তীর্ণ অংশে গণবিক্ষোভ চলছে। আমেরিকার আশঙ্কা, যে কোনও পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড় করার রাস্তায় হাঁটতে পারে ইরান প্রশাসন। তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছে, “ইরানের বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নিতে পারে। এর ফলে ব্যাপক ধরপাকড় এবং জখম হওয়ার ঘটনা ঘটবে। রাস্তা এবং গণপরিবহণ বন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।”
ওই সতর্কবার্তায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত বহু বিমানসংস্থা ইরানে উড়ান পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের স্থলপথে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে আমেরিকা। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আর্মেনিয়া এবং তুরস্ক হয়ে ইরান ছেড়ে বেরোতে পারেন মার্কিন নাগরিকেরা। তবে এ ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইরানে এখনও বহু জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ধাপে ধাপে গোটা দেশেই ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ইরানে। ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের অপসারণ চাইছেন ইরানের মানুষ। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে কঠোর হয়েছে ইরান প্রশাসন। নির্বিচারে প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। গুলিবিদ্ধ রোগীতে উপচে পড়ছে হাসপাতালগুলি।