Advertisement
E-Paper

ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাশিয়া! কী বললেন ভ্লাদিমির পুতিন

পুতিন মনে করেন, ইরান এবং ইজ়রায়েল, এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ‘সমাধান’ সম্ভব। সেই নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলছে মস্কো বলে জানিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৫ ২৩:১৫
ভ্লাদিমির পুতিন।

ভ্লাদিমির পুতিন। — ফাইল চিত্র।

ইজ়রায়েল এবং ইরান গত শুক্রবার থেকে সংঘাতে জড়িয়েছে। সেই সংঘাত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমেরিকা বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে তারা। ইরানকে চাপে রাখতে আসরে নেমেছে ইউরোপের তিন দেশ, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি। ইরানের ‘বন্ধু’ বলে পরিচিত রাশিয়া কী করে, এখন সে দিকেই তাকিয়ে সকলে। এই আবহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংঘাত থেকে যেন কিছুটা ‘দূরত্ব’ই রচনা করলেন। তিনি জানালেন, এ সবের মধ্যে তাঁরা কোথাও নেই। মধ্যস্থতাকারীও হতে চান না তাঁরা। তবে দুই পক্ষের মধ্যে এই টানাপড়েনের ‘সমাধান’ সম্ভব। সেই নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলছে মস্কো বলে জানিয়েছেন পুতিন।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিক ফোরামে পুতিন বলেন, ‘‘আমাদের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। আমরা কোথাও নেই। আমি এটাও বলতে চাই যে, আমরা মধ্যস্থতাকারীও হতে চাইছি না। আমরা শুধুই কিছু পরামর্শ দিতে চাইছি।’’ সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে রাশিয়ার। এই আবহে মনে করা হচ্ছে, নতুন করে আর কোনও যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন না পুতিন। সে কারণেই ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত নিয়ে তিনি শুক্রবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার তিনি আরও বলেন, ‘‘দুই দেশের জন্যই সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আমার মতে, এই সমাধান রয়েছে।’’

গত সপ্তাহেও ইজ়রায়েল এবং ইরানের সংঘাতে ইতি টানতে সক্রিয় হয়েছিলেন পুতিন। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন তিনি। পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পোজ়েশকিয়ানকেও ফোন করেন। দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেন। এই আবহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত ১৭ জুন তাঁকে ফোন করে ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন। ট্রাম্পের দাবি মোতাবেক, তিনি সেই আর্জি খারিজ করে পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মাথা ঘামাতে বলেন। তার পরেও যে থেমেছিলেন পুতিন, তা নয়। আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তা বিবৃতি দিয়ে পরে জানায় ক্রেমলিন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে বিবৃতি দিয়ে রাশিয়ার প্রশাসন জানিয়েছে, ইজ়রায়েলের হামলাকে ‘ধিক্কার’ জানিয়েছেন পুতিন এবং জিনপিং। আমেরিকাকে হুঁশিয়ারিও দেয় রাশিয়া। তাদের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ইজ়রায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানে হামলা চালালে তার ফল হবে ভয়াবহ!

এর পরেই হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা অস্ত্র ধরবে কি না, সেই বিষয়ে দু’সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এই আবহে ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধি করতে আসরে নামে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তিন দেশের প্রতিনিধি। বৈঠকে রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যেরাও। সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় হয় বৈঠক। মনে করা হচ্ছে, তেহরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, বৈঠকে সেই নিয়ে আরও চাপ বৃদ্ধি করছে ইউরোপের তিন দেশ। তার মধ্যেই পুতিন জানিয়ে দিলেন, এ সবের মধ্যে তিনি কোথাও নেই। তবে সংঘাতে ইতি টানা নিয়ে পরামর্শ দিতে চান তিনি।

Vladimir Putin
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy