×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৩ জুন ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

এই শহরে থাকতে চাইলে বাদ দিতে হবে অ্যাপেনডিক্স!

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৮ নভেম্বর ২০১৮ ১২:২০
এ শহর‘শিব ঠাকুরের আপন দেশ’ নয়। কিন্তু আইনকানুন দেখে তা বোঝার জো নেই! শহরের নাম ভিলা লে এস্ট্রেলা। দক্ষিণ মেরুর কিং জর্জ দ্বীপে অবস্থিত এই শহর আকারে ছোট হলেও শান্তিপূর্ণ। ছিমছাম ঘর-বাড়ি, বরফঢাকা প্রান্তর আপনার মন জয় করবে। কিন্তু চাইলেই থাকতে পারবেন না!

এখানে বাস করতে গেলে অবশ্যই অস্ত্রোপচার করে আপনার অ্যাপেনডিক্স বাদ দিতে হবে। নয়তো এখানে বাস করার অনুমতি পাবেন না আপনি। বৃদ্ধ, শিশু নির্বিশেষ এই শহরে বসবাসকারী সকলের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য। এমন করলে তবেই এখানে বাসের অনুমতি দেবে শহরের প্রশাসন।এটাই এ শহরের দস্তুর। কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত নিয়ম?
Advertisement
ভিলা লে এস্ট্রেলার জনবসতি একেবারেই হাতে গোনা। তার মধ্যে বেশির ভাগই চিলির বিমান বাহিনী অথবা নৌবাহিনীর সদস্য। একটা অংশ আবার বৈজ্ঞানিকও। বংশ পরম্পরায় তাঁরা অনেকেই নিজের পরিবারের সঙ্গেই বাস করেন। তাঁদেরই মস্তিষ্কপ্রসূত এই নিয়মের নেপথ্যে রয়েছে এর বৈজ্ঞানিক কারণ।

এমনিতে এই শহরের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা থাকে হীমাঙ্কের ২.৩ ডিগ্রি নীচে। আবার শীত হানা দিলে এই তাপমাত্রাই নেমে যায় মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে!
Advertisement
প্রবল ঠান্ডায় বাস করার অনেকগুলো অসুবিধার মধ্যে অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিকূলতা। এই শহরের সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটির দূরত্ব ৬২৫ মাইল বা প্রায় ১০০৬ কিলোমিটার।

এ ছাড়া এই শহরে চিকিৎসকও প্রায় নেই বললেই চলে। যে অল্প কয়েক জন আছেন, তাঁরা কেউই শল্যবিদ্যায় পারদর্শী নন। অস্ত্রোপচারে অভ্যস্ত না হওয়ার কারণে অ্যাপেনডিক্সের সমস্যা দেখা দিলে বা এতে সংক্রমণ হলে তা কেটে বাদ দিতে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে হয় এখানকার অধিবাসীদের।

অ্যাপেনডিক্স একমাত্র অঙ্গ— যা না থাকলেও শরীরের তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটি থাকলেই এতে সংক্রমণ বা সমস্যার ভয় থাকে। এর সংক্রমণে মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই ব্যথা বা সমস্যা এড়াতে আগেভাগেই তা কেটে বাদ দিলে তবেই এ শহরে থাকার অনুমতি মেলে। মূলত  জন্মের সময়ই শিশুদের অ্যাপেনডিক্স বাদ দিয়ে দেওয়া হয় এখানে।

শুধু তাই-ই নয়, চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবে গর্ভধারণের ক্ষেত্রেও এই শহরে আগাম অনেক সতর্কতা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হয় এখানকার অধিবাসীদের। আবহাওয়ার কারণে এই শহরে নতুন করে কোনও চিকিৎসক বাস করতেও আসেন না। অত ঠান্ডায় হাসপাতাল পরিষেবা গড়ে তোলাও মুশকিল। তাই নিজেদের শরীর বুঝে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন এঁরা।

কিন্তু তাতেও মানুষ থাকেন কেন? এই শহরে আসলে থাকার খরচ কম, তা ছাড়া খুব শান্তিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অন্যান্য উপদ্রব কম। মানুষের বাস করার করার জন্য স্কুল-কলেজ, ডাকঘর, দোকান-বাজার সবই রয়েছে। দীর্ঘ দিন এখানে বাস করতে করতে এখানকার জীবনশৈলীতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওই কয়েক ঘর অ্যাপেনডিক্সবিহীন অধিবাসী।