Advertisement
E-Paper

বিশ্বের বৃহত্তম তৈলভান্ডার! ভেনেজ়ুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযান সেই লক্ষ্যেই? মাদুরো বন্দি, আমেরিকায় শুরু বিক্ষোভ

ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভান্ডার। আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। স্লোগান উঠছে, ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭
ভেনেজ়ুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আমেরিকার রাস্তায়। শনিবার।

ভেনেজ়ুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আমেরিকার রাস্তায়। শনিবার। ছবি: রয়টার্স।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সে দেশ থেকে অপহরণ করেছে আমেরিকার বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। আপাতত সেখানেই মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে মাদুরোকে বন্দি করে রাখা হবে। ট্রাম্প শনিবারই জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসন চালাবে আমেরিকা। কিন্তু কেন এই ক্ষমতা অধিগ্রহণ? দক্ষিণ আমেরিকার দেশের উপর কিসের ক্ষোভ ট্রাম্পের?

অনেকের দাবি, ট্রাম্পের নজর আসলে রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার বিপুল তৈলভান্ডারে। মাদুরোকে সরিয়ে আসলে তা অধিগ্রহণ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজ়ুয়েলার কুর্সিতে আপাতত তিনি এমন একজনকে বসাবেন, যিনি আমেরিকার ‘হাতের পুতুল’। সেই সুযোগেই দেশটির তৈলভান্ডারে অবাধে রাজত্ব করতে চায় ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে।

ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভান্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় মার্কিন সেনার অভিযানের বিরুদ্ধে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের মুখেই তেল সংক্রান্ত স্লোগান শোনা গিয়েছে। কেউ বলছিলেন, ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’, কেউ আবার বলছিলেন, ‘ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না’। শিকাগোর ফেডেরাল প্লাজ়ার সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘‘লাতিন আমেরিকার উপর থেকে হাত তুলে নাও।’’ উল্লেখ্য, ভেনেজ়ুয়েলায় ট্রাম্প যে অভিযান চালিয়েছেন, আমেরিকানেরা তার জন্য সম্মতি দেয়নি। কোনও ভোটাভুটি নয়। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার জন্য আমেরিকার নাগরিকেরা অনেকেই ক্ষুব্ধ।

ভেনেজ়ুয়েলার আদালত অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে আপাতত সে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে। ডেলসি অবিলম্বে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সামনে মাথা নত না করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভেনেজ়ুয়েলাকে এবং তার প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করবেন বলে দাবি করেছেন।

ভেনে়জ়ুয়েলা আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অপহরণের নেপথ্যে অন্য কারণ দেখিয়েছে আমেরিকা। দাবি, ভেনেজ়ুয়েলা থেকে অপরাধীরা অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া, মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, আমেরিকার আদালতে বিচারের আওতায় আনা হবে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির চক্রান্ত, মেশিনগান ও অন্যান্য ধ্বংসাত্মক যন্ত্র সঙ্গে রাখার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

venezuela US Venezuela Crisis Donald Trump Nicolas Maduro
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy