আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় অনুমোদনের প্রক্রিয়া আপাতত ঠান্ডা ঘরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে আমেরিকার শুল্কনীতি এখন তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে তাঁদের নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে বিশদ তথ্য চেয়েছে তারা। এমনটাই বলছে ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হয়ে আলোচনা করছেন জ়েলজানা জ়োভকো। তিনি ব্লুমবার্গকে একটি সাক্ষাৎকারে জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ‘আর কোনও পথ নেই’। পরিস্থিতির স্পষ্ট ধারণা পেতে সমঝোতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, সোমবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এই সমঝোতা অনুমোদনের আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হবে। পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান জরুরিকালীন বৈঠক ডেকেছেন বলেও খবর। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতদের। রিপোর্ট বলছে, বৈঠকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে আলোচনার জন্যই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হবে বিভিন্ন দেশের থেকে। সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিজের হ্যান্ডলে ট্রাম্প লেখেন, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি অবিলম্বে বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করব। যাদের মধ্যে অনেকেই কয়েক দশক ধরে আমেরিকাকে নিংড়ে নিয়েছে।” সেই তালিকায় রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
আরও পড়ুন:
তার পরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে জানানো হল, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। আমেরিকা যত পণ্য রফতানি করে, তার বড় অংশ হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট পণ্যের ২০.২ শতাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিতে রফতানি করেছে আমেরিকা। যার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭ লক্ষ কোটি। আমেরিকার সেনসাস ব্যুরোর পরিসংখ্যান এই তথ্য দিয়েছে। এ বার সেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখছে।
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ন’জন বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ভিত্তিতে ঘোষিত রায়ে বলেছে, ‘‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের উপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। এর পরেই শীর্ষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে ট্রাম্প অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে দেন ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার এই নতুন শুল্ক নীতি তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।