পুজোর মিষ্টিমুখে থাকুক ভাপা দই! রইল রেসিপি
এই পদটি রান্না করা খুবই সহজ। শুধু কয়েক ঘণ্টা সময় দিতে হয়।
পুজো মানেই তো হরেক রকম ভালমন্দ খাবার! তার শেষপাতে মিষ্টি না হলে চলে? এ বছর জমিয়ে মিষ্টিমুখ হোক একেবারে ভিন্ন ধরনের একটি পদ দিয়ে — ভাপা দই! এই সহজ ও সুস্বাদু রেসিপিটি বানিয়ে চমকে দিন সবাইকে।
ভাপা দই বানাতে প্রধানত তিনটি জিনিস প্রয়োজন। সেগুলি হল - টক দই: ১ কেজি (জল ঝরানো), কনডেন্সড মিল্ক: ২৫০ গ্রাম এবং ছোট এলাচ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ।
প্রথমে টক দই একটি পাতলা সুতির কাপড় বা ছাঁকনিতে নিয়ে ঝুলিয়ে রাখুন ২-৩ ঘণ্টা। এতে দইয়ের সমস্ত অতিরিক্ত জল ঝরে যাবে এবং দই একদম ঘন ও ক্রিমি হয়ে যাবে। এই প্রাথমিক ধাপটি ভাপা দইয়ের মসৃণ টেক্সচারের জন্য খুবই জরুরি।
এ বার জল ঝরানো দই একটি বড় পাত্রে নিয়ে নিন। এর সঙ্গে কনডেন্সড মিল্ক ও এলাচ গুঁড়ো যোগ করুন। ভাল করে ফেটিয়ে নিন, যাতে কোনও দানা না থাকে এবং মিশ্রণটি একদম মসৃণ ও ফোলা ফোলা হয়।
মিশ্রণটি প্রস্তুত হলে যে পাত্রে দই বসাবেন (যেমন স্টিলের টিফিন বক্স বা কাচের বাটি), তাতে ঢেলে দিন। পাত্রটি সামান্য মাখন বা তেল দিয়ে গ্রিজ করে নিলে দই বার করতে সুবিধা হবে।
আরও পড়ুন:
এ বার দইয়ের মিশ্রণের উপরে আপনার পছন্দ মতো ড্রাই ফ্রুটস বা জাফরান ছড়িয়ে দিন। কাজু, পেস্তা, আমন্ড কুচি বা কিসমিস দিয়ে সাজাতে পারেন। এতে দইয়ের স্বাদ ও সৌন্দর্য দুটোই বেড়ে যাবে।
এ বার পাত্রের মুখ ফয়েল পেপার বা ঢাকনা দিয়ে ভাল করে মুড়ে বা ঢেকে দিন। তার পরে একটি বড় হাঁড়ি বা কড়ায় জল ফুটিয়ে তাতে একটি স্ট্যান্ড বসিয়ে দিন। দেখবেন, জল যেন স্ট্যান্ডের বেশি উপরে না ওঠে। এর উপরে দইয়ের পাত্রটি সাবধানে বসিয়ে দিন।
মাঝারি আঁচে ২৫-৩০ মিনিট দইটি স্টিম হতে দিন। দই সঠিক ভাবে ভাপা হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য একটি টুথপিক বা ছুরি ফুটিয়ে দেখে নিতে পারেন। যদি টুথপিক পরিষ্কার অবস্থায় বেরিয়ে আসে, তা হলে বুঝবেন ভাপা দই তৈরি।
স্টিম হয়ে গেলে পাত্রটি নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এর পরে ফ্রিজে রেখে ২-৩ ঘণ্টা বা ভাল ভাবে সেট হওয়া পর্যন্ত ঠান্ডা করুন। এই পদটি ঠান্ডা খেতে বেশি ভাল লাগে।
আরও পড়ুন:
ঠান্ডা হওয়ার পরে ফ্রিজ থেকে বের করে একটি প্লেটে উল্টে দিন। যদি পাত্রের গায়ে এঁটে থাকে, তবে ধার দিয়ে একটি ছুরি চালিয়ে দিন। এর পরে সুন্দর করে কেটে পরিবেশন করুন। পুজোর কোনও একটি দিনে এই ভাপা দই আপনার অতিথি ও পরিবারের সদস্যদের মন জিতে নিতেই পারে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।