নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। আদালত সূত্রে খবর, কর্মচারিদের চাকরিচ্যুত করার তিনটি মামলায় অনুপস্থিতির জেরেই এই পরোয়ানা। বুধবার মামলা তিনটির দুই আসামি আদালতে হাজির হলেও অনুপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনূস। এই অনুপস্থিতির কারণেই তাঁর জামিন মিলল না।

মহম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের কিছু শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাইলে তাতে বাধা দিয়ে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত তিন জন শ্রমিক ইউনূস এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজনিন সুলতানা ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার আবু আবেদিনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের উপস্থিতির দিন ধার্য করা হয় বুধবার।

মামলাটির দুই আসামি নাজনিন সুলতানা ও খন্দকার আবু আবেদিন উপস্থিত থাকলেও এই মুহূর্তে বিদেশে থাকায় মহম্মদ ইউনূস উপস্থিত হতে পারেননি। এই আইনি কারণেই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রহিবুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর  নাজনিন সুলতানা ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার আবু আবেদিন বুধবার আদালতে হাজির থাকায় আদালত তাঁদের জামিন দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় বোমা পুলিশকে, দায় নিল আইএস

মহম্মদ ইউনূসের পক্ষে তাঁর আইনজীবী রাজু আহমেদ আদালতে বলেন, যেহেতু বর্তমানে তিনি ব্যবসার কাজে বিদেশে রয়েছেন, তাই তাঁর পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি দেশে এলে আদালতে উপস্থিত হবেন। আইনজীবী রাজু আহমেদ এ দিন সাংবাদিকদের জানান, ইউনূস বিদেশে থাকায় ওকালতনামা না দেওয়ায় তাঁর পক্ষে আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণেই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

আরও পড়ুন: এনআরসি-ছুটদের নিয়ে উদ্বেগে বাংলাদেশ, সতর্ক বিজিবি

গত ৩ জুলাই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মহম্মদ ইউনূস-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের প্রস্তাবিত শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম এবং সংগঠনের সদস্য এমরানুল হক।