চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডি লিট দেওয়া হল ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে। ডিগ্রি পেয়ে প্রণববাবু বললেন, ‘‘আমার মতো এক জন সাধারণ মানুষকে ডি লিট দিয়ে সম্মানিত করলেন আপনারা। আমি কৃতজ্ঞ, অভিভূত।’’
এ দিন সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছোন প্রণববাবু। বিমানবন্দর থেকে রাস্তার দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। প্রণবের সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামের প্রধান দৈনিক সংবাদপত্রটি এ দিন বিশেষ ক্রোড়পত্রও প্রকাশ করে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বিশেষ বক্তৃতায় প্রণব বলেন, ‘‘স্বাধীনতার কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা জাতির জনক মহাত্মা গাঁধীকে হারিয়েছিলাম। ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় ঘাতকের নৃশংস আক্রমণে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এ ভাবে প্রায় জন্মলগ্নের মুহূর্ত থেকেই একটি জাতিকে কেন নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের জানা দরকার।’’ নিরন্তর গবেষণার মধ্যে দিয়েই এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে, আশা প্রণববাবুর। তিনি বলেন, ‘‘রাস্তা যদি চিনে নিতে পারি, তা হলে চলার পথ সহজ হয়ে যাবে।’’
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে আজ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। খাদ্যতালিকায় ছিল চট্টগ্রামের বিশেষ ২৯টি পদ।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পরে রাউজান কলেজের কাছে মুন্সির ঘাটা এলাকায় সূর্য সেনের ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রণববাবু। সূর্য সেনের নামে একটি পাঠাগার উদ্বোধনও করেন তিনি। তারপর যান নোয়াপাড়ায়, ‘মাস্টারদা’র বাড়িতে। কাল দামপাড়া পুলিশ লাইনে অস্ত্রাগার পরিদর্শনে যাবেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়ে এই অস্ত্রাগারটিই লুঠ করেছিল বিপ্লবীরা।