রান্নার গ্যাস বা এলপিজি নিয়ে গ্রাহকদের যে হয়রানি, তার মূলে তেল সংস্থাগুলির সফটওয়্যারের বিবিধ সমস্যা রয়েছে বলেই দাবি করছেন ডিলারদের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, সময়ে সিলিন্ডার বুকিং না হওয়া, বুকিং হলে ডেলিভারি কোড না আসা কিংবা ডেলিভারিতে দেরি হওয়া সবই হচ্ছে এই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে। যদিও তেল সংস্থাগুলির দাবি, সফটওয়্যারে সে রকম সমস্যা নেই। হঠাৎ করে বুকিং-এর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসুবিধা হয়েছে। তা ধীরে ধীরে ঠিক হবে।
স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় ৫০ লক্ষ গ্যাস বুকিং হত। যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করতে থাকায় মাসের প্রথমে তা দাঁড়ায় ৮৭-৮৮ লক্ষ। চলতি সপ্তাহে ফের নেমেছে ৫৭-৫৮ লক্ষে। কিন্তু তাতেও যে সমস্যা কমেনি, সেটা স্পষ্ট। ক্ষুব্ধ ক্রেতারা জানাচ্ছেন, শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বুকিং-এর ১০-১২ দিন পরেও সিলিন্ডার মিলছে না। অনেকে বুকিং করেও ডেলিভারি কোড পাননি। কাউকে মিস্ড কল বা ফোনের অসুবিধায় বিকল্প হিসেবে তেল সংস্থার অ্যাপ বা ওয়টস্যাপে বুকিং সারতে হয়েছে। বেশি সমস্যায় প্রবীণেরা, যাঁদের অনেকে প্রযুক্তির সঙ্গে সড়গড় নন।
যদিও গ্যাস সংস্থাগুলির দাবি, দেশে এলপিজি-র জোগান যথেষ্ট। ডিলারদের একাংশ অবশ্য জানাচ্ছেন, সংস্থাগুলি সফটওয়্যার ঠিক করছে না। এ দিকে তিন সপ্তাহ ধরে সিলিন্ডার পেতে দেরি বা বুকিং-এর সমস্যায় গ্রাহকেরা এসে ভিড় করছেন ডিলারদের কাছে। ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদেরই। যদিও এই চাপান-উতোরে আগ্রহী নন গ্রাহকেরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, সমস্যা কার, তা জেনে লাভ নেই। সময়ে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, সেটাই মূল বিষয়। এখন অপেক্ষা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার।
চাপান-উতোর
গ্রাহকদের অভিযোগ
সময়ে সিলিন্ডার বুক করা যাচ্ছে না।
বুকিং করেও ডেলিভারি কোড মিলছে না।
ফোন করে বা মিস্ড কলে বুকিং-এ সমস্যা হচ্ছে।
অ্যাপ, ওয়টস্যাপে বুকিং-এ সঙ্কটে বয়স্কেরা।
সিলিন্ডার হাতে পেতে লাগছে বহু দিন।
ডিলারদের দাবি
ঠিকমতো তেল সংস্থাগুলির সফটওয়্যার কাজ করছে না।
গ্রাহকেরা বুকিং করতে না পেরে বা সিলিন্ডার না পেয়ে ডিলারদের কাছে যাচ্ছেন।
বাড়ছে দু’পক্ষের তরজা।
অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, দায়িত্ব নিতে হচ্ছে ডিলারদের।
তেল সংস্থার দাবি
দেশে তেল-গ্যাসের জোগানের সমস্যা নেই।
হঠাৎ করে সিলিন্ডার বুকিং বেড়ে যাওয়ায় সফটওয়্যারে চাপ পড়েছিল।
হাল ধীরে স্বাভাবিক হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)