মাসে মাসে লাখ টাকা পেনশন। তার পরেও জমানো টাকায় পড়বে না হাত। উল্টে তার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছোতে পারে কোটিতে। ভাবছেন, তা আবার হয় নাকি! বর্তমানে দেশের ডাকঘর এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে এমনই একটি প্রকল্প চালাচ্ছে কেন্দ্র। সেখানে টাকা রাখলে কী ভাবে এই সুবিধা পাবেন গ্রাহক? আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল তার যাবতীয় খুঁটিনাটি।
সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরে চলা ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম ‘পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড’ বা পিপিএফ। এতে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ নয়। তবে সুদের হার ওঠা-নামা করতে পারে। বর্তমানে সেটা ৭.১ শতাংশে স্থির রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি উদাহরণের সাহায্যে পিপিএফের সুবিধা বুঝে নেওয়া যেতে পারে।
যদি কোনও ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সে পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং তিন বার তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করেন, তা হলে টানা ৩০ বছর পর্যন্ত সেখানে লগ্নি করতে পারবেন তিনি। ওই ব্যক্তি বছরে দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে এবং সুদের হার ৭.১ শতাংশ বজায় থাকলে মেয়াদ শেষে সুদেমূলে হাতে আসবে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার ৯১১ টাকা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ৬০ বছর বয়সে কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে বিনিয়োগকারী পিপিএফের টাকা পেনশনের মতো ব্যবহার করতে পারেন। এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অর্থ ‘সিস্টেমেটিক উইড্রয়াল প্ল্যান’ বা এসডব্লিউপিতে দিতে পারেন তিনি। সেখানে দীর্ঘমেয়াদে মিলবে সাত শতাংশ রিটার্ন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের গড় আয়ু ৮০ বছর ধরে নিলে অবসরের পরবর্তী ২০ বছর এসডব্লিউপি থেকে পেনশনের মতো নিয়মিত আয় করতে পারবেন তিনি।
এসডব্লিউপির সুদের হারও ওঠানামা করে থাকে। যদিও ন্যূনতম সাত শতাংশ রিটার্ন বজায় থাকবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সে ক্ষেত্রে পিপিএফের গ্রাহক ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার ৯১১ টাকার পুরোটাই সেখানে বিনিয়োগ করলে ২০ বছর ধরে মাসে মাসে লাখ টাকা করে হাতে পাবেন তিনি। আর ৮০ বছরে পৌঁছে তাঁর সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ সামান্য কম দাঁড়াবে ১ কোটি ৫ হাজার ৬৫৫ টাকা।