কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল আরও কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশ সংস্থা। সিএমআইই-র সমীক্ষাও জানাল, এই অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির (আর্থিক নয়) নিট বিক্রি বৃদ্ধির হার তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ২.৭%। যেখানে গত অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে তা ছুঁয়েছিল ২৩.৪%।

এই পরিস্থিতিতে শিল্প যখন ত্রাণ প্রকল্পের আশায় তাকিয়ে কেন্দ্রের দিকে, তখন এ নিয়ে তাদের বিঁধলেন দেশের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মণ্যন। বললেন, ত্রাণের উপরে নির্ভর না করে বরং নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করুক সংস্থাগুলি। আর তার পরেই বৃহস্পতিবার হুড়মুড়িয়ে ৫৮৭.৪৪ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স। দাঁড়াল ৩৬,৪৭২.৯৩ অঙ্কে। বিশেষজ্ঞদের মতে,  সুব্রহ্মণ্যনে বক্তব্যে ত্রাণের দাবি খারিজেরই বার্তা ছড়িয়েছে। তাই পড়েছে সূচক।

এ দিনই প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শমীকা রবি বলেন, ‘‘আমরা কাঠামোগত সঙ্কটে ভুগছি। বড় সংস্কার জরুরি।...অর্থ মন্ত্রকের হাতে অর্থনীতির দায়িত্ব দেওয়া মানে সংস্থার বৃদ্ধির ভার অ্যাকাউন্টস দফতরের হাতে ছাড়া।’’

বুধবার মুম্বইয়ে সুব্রহ্মণ্যন বলেন, ১৯৯১ সালের সংস্কারের পরে তিন দশক কাটতে চলেছে। এ বার কেন্দ্রের উপরে নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হোক বেসরকারি ক্ষেত্র। এর পরে বৃহস্পতিবারও তিনি একই বার্তা দেন নয়াদিল্লিতে। যদিও নীতি আয়োগের ভাইস চেয়্যারম্যান রাজীব কুমার বলেছেন, আর্থিক অবস্থা যুঝতে ঠিক সময়ে পদক্ষেপ করবে সরকার। 

গাড়ি শিল্পে অবশ্য ‘রক্তক্ষরণ’ অব্যাহত। গাড়ি, যন্ত্রাংশ ও ডিলার সংস্থা নিয়ে ৩.৫ লক্ষ কাজ গিয়েছে। সূত্রের খবর, গাড়ির এসি ও পাওয়ারট্রেন সংস্থা ডেন্‌সো কর্পের ৩৫০ জন ছাঁটাই হয়েছেন। জ্বালানির ট্যাঙ্ক ও ব্রেক প্যাড নির্মাতা বেলসনিকা-এ ৩৫০ জনের বেশি। 

এই অবস্থায় ধার দেওয়া নিয়ে সতর্ক ব্যাঙ্ক। বহু কৃষকের অভিযোগ, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রাখতে হচ্ছে তাঁদের। মুথুট ফিনান্সের বক্তব্য, গত কয়েক মাসে স্বর্ণঋণের চাহিদা বেড়েছে।