E-Paper

বুঝেশুনে পা দিন, সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নিন নির্দিষ্ট কিছু বিধি মেনে

ব্যাঙ্ক, বিমা, স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প, মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি-বেসরকারি বন্ড, শেয়ার বাজার এবং লগ্নির উপর কর সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু নিয়ম-কানুন জানা থাকলে, প্রয়োজনে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধে হয়। আজ এমনই কিছু জ্ঞানের সন্ধান করা যাক।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৬:১৩

—প্রতীকী চিত্র।

বিমা কেনা অথবা লগ্নি, দু’ক্ষেত্রেই নিজে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বেশির ভাগ সময়ে তা লাভজনক হয়। পুরোটা অন্যের হাতে ছাড়লে অনেক সময়ে দেখা যায়, যে পলিসি প্রয়োজন তা কেনা হয়নি বা ভুল জায়গায় টাকা লগ্নি হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে এজেন্ট অথবা পরামর্শদাতা লগ্নিকারীর স্বার্থের তুলনায় নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। তবে নিজে বুঝে এগোতে এই দুই ক্ষেত্র সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে এবং নিয়মিত খবরাখবর রাখতে হবে। অন্য কেউ ফর্ম ভর্তি করে দিলে, তা সই করার আগে পড়ে বুঝে নিতে হবে। দেখে নিতে হবে, প্রয়োজন মত সঠিক বাক্সে টিক মারা হয়েছে কি না। যাচাই করে নিতে হবে ফর্মে লেখা সব তথ্যও।

ব্যাঙ্ক, বিমা, স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প, মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি-বেসরকারি বন্ড, শেয়ার বাজার এবং লগ্নির উপর কর সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু নিয়ম-কানুন জানা থাকলে, প্রয়োজনে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধে হয়। আজ এমনই কিছু জ্ঞানের সন্ধান করা যাক।

ব্যাঙ্কে সব জমা প্রকল্পের সুদ করযোগ্য। মোট সুদ ৫০,০০০ টাকা (প্রবীণদের ক্ষেত্র ১ লক্ষ) ছাড়ালে ব্যাঙ্ক উৎসে কর কাটবে (টিডিএস) ১০%। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৫জি (প্রবীণদের ক্ষেত্রে ১৫এইচ) জমা করলে উৎসে কর কাটা হয় না। তবে যাঁদের সম্ভাব্য আয় করযোগ্য নয়, তাঁরাই এই ফর্ম দিতে পারেন। কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ১০ শতাংশের বেশি হলে, বাড়তি কর নিজেকে জমা করতে হবে।

স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের সুদ তিন মাস অন্তর পুনর্বিবেচনা করা হয়। পিপিএফ ছাড়া বাকিগুলিতে একবার টাকা জমা করার পরে প্রকল্পের সুদ কমলেও, বাকি মেয়াদে পুরনো হারেই সুদ মেলে। নতুন জমায় প্রযোজ্য নতুন সুদ। ব্যাঙ্কের মেয়াদি জমাতেও একই নিয়ম।

পেনশন করযোগ্য। আয়কর আইনে তা বেতন হিসেবে গণ্য। যে কারণে পেশনভোগীরাও স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধা পেয়ে থাকেন।

মিউচুয়াল ফান্ডে সরাসরি লগ্নি করলে খরচ কম পড়ে। এজেন্টের মাধ্যমে খরচ বাবদ কিছু টাকা কাটা যায়। যে কারণে বড় মেয়াদে সরাসরি বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত বেশি বাড়ে।

শেয়ার এবং শেয়ার ভিত্তিক ফান্ডে লগ্নি এক বছর ধরে রাখার পরে বিক্রি করে লাভ হলে (দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ) প্রতি বছর তার প্রথম ১.২৫ লক্ষটাকা থাকে করমুক্ত। লাভ বেশি হলে কর বসে ১২.৫%। যে সব ফান্ডের ৬৫% বা তার বেশি তহবিল শেয়ারে লগ্নি হয়, সেগুলিই শেয়ার ভিত্তিক ফান্ড। এক বছরের মধ্যে বিক্রি করে লাভ হলে (স্বল্পমেয়াদি মূলধনী লাভ) তার উপর কর দিতে হয় ২০%।

শেয়ারে লগ্নি করতে হলে জানতেহয় কয়েকটি অনুপাত বা রেশিয়ো। যেমন, শেয়ার পিছু আয় বা ইপিএস, দাম ও আয়ের অনুপাত বা পিই রেশিও। খেয়াল করতে হবে, আগের ৫২ সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম, বর্তমান দাম ইত্যাদি। নজর রাখা জরুরি সংস্থার ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ফলাফলের দিকেও। জানতে হবে, ওই সংস্থা তার শেয়ারহোল্ডারদের কোনও রকম ডিভিডেন্ড দেয় কি না এবং দিলে তা কতটা আকর্ষণীয়।

সেরা রেটিং বা মূল্যায়ন থাকা বন্ডে ঝুঁকি নেই তা বলা যাবে না। সুদ কমলে বা বাড়লে বন্ডের দামকেও উঠতে এবং পড়তে দেখা যায়। সুদ বাড়লে বন্ডের দাম কমে তার ইল্ড (প্রকৃত আয়) বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। উল্টোটা হয় সুদ কমলে। অর্থাৎ বাজারে বিক্রি করে বন্ডে লাভ ও লোকসান দুই-ই হতে পারে। তবে কম রেটিংযুক্ত কর্পোরেট বন্ডের টাকা মেয়াদ শেষে ফেরত পেতে সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ বন্ডে লগ্নির ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতি বছর নির্ধারিত দিনের আগেই মেটাতে হবে বিমার প্রিমিয়াম। স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে নইলে বিমাটিই বাতিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ফের তা করাতে হবে। তাতে পুরনো কিছু সুযোগ-সুবিধা না-ও মিলতে পারে। নতুন করে করাতে হতে পারে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

savings Insurance Policy investments Money Saving Tips

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy