জেট এয়ারওয়েজের শঙ্কার আকাশে কিছুটা স্বস্তি। মঙ্গলবার থেকেই অন্তত ৪৫টি উড়ান চালাতে শুরু করছে স্পাইস জেট এবং এয়ার ইন্ডিয়া। স্পাইস জেট ৪০টি এবং এয়ার ইন্ডিয়া ৫টি উড়ান চালাতে পারে বলে সূত্রের খবর। এর ফলে ওই উড়ানগুলির পাইলট, কেবিন ক্রু এবং বিমানসেবিকাদের বেতন নিয়ে সঙ্কট কিছুটা কাটতে পারে। কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সচিব পিএস খারোলা জানিয়েছেন, মে-জুনের মধ্যে আরও ২০টি বিমান ভাড়ার ভিত্তিতে চালানো সম্ভব হবে।

অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে খবর, জেট এয়ারওয়ে়জের ৪০টি বোয়িং ৭৩৭ বিমানগুলি মঙ্গলবার থেকেই চালানো শুরু করছে স্পাইস জেট। অন্য দিকে সস্তা উড়ানের জন্য এয়ার ইন্ডিয়া নিচ্ছে তুলনায় কিছুটা চওড়া ৫টি বোয়িং ৭৭৭ গোত্রের বিমান। এর বাইরে জুলাই মাসের মধ্যে আরও ৩১টি উড়ান চালু করতে চাইছে বিভিন্ন সংস্থা। গ্রীষ্মকালীন চাহিদার কথা মাথায় রেখে ওই সংস্থাগুলিকে এই প্রক্রিয়া তরান্বিত করার আর্জি জানানো হয়েছে। ওই সংস্থাগুলিও জেটের বিমানগুলিই লিজ নিয়ে চালাবে। ফলে মে-জুনের মধ্যেই আরও ২০টি বিমান চালানো সম্ভব হবে।

কিন্তু তাতে কি জেটের সঙ্কট কাটবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরোপুরি না কাটলেও জেটের কর্মীদের অনেকটাই সুরাহা হবে। কারণ, স্পাইস জেট এবং এয়ার ইন্ডিয়া দুই সংস্থাই জেট এয়ারওয়েজের বিমাগুলি ‘ওয়েট-লিজ’ নিচ্ছে। যার অর্থ বিমানের মালিক সংস্থার কাছ থেকে কর্মী-সহ বিমান লিজ নিয়ে চালায় অন্য সংস্থা। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা সহ অন্যান্য পরিষেবাও দেয় মালিক সংস্থা। বিনিময়ে ঘণ্টা পিছু ভাড়া দেয় লিজ নেওয়া সংস্থা। এর ফলে জেটের একটা বড় অংশের কর্মী পুরোপুরি কাজ হারাবেন না।

আরও পড়ুন: পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কলম্বোর গির্জা-হোটেল, নিহত অন্তত ১৫০, জখম ৩০০

পাশাপাশি জেটের সঙ্কটের জেরে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। জেটের ছিল মোট ১১৫টি উড়ান। যাতায়াত করত দেশ-বিদেশের ৫২টি গন্তব্যে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ উড়ান ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। কিন্তু বুধবার থেকেই সংস্থার সব উড়ান বন্ধ। ফলে এক দিকে যেমন টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে, এই সব রুটে ভাড়াও বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। জেটের এই উড়ানগুলি শুরু হলে সেই সঙ্কট অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছে বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।

আরও পডু়ন: ‘বাবরি ভেঙে বেশ করেছি’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য সাধ্বীর, নোটিস ধরালো কমিশন