পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাংলার শিল্পায়ন তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোতে পারেনি বলে বারবার অভিযোগ তুলেছে শিল্প মহলের একাংশ। তা স্পষ্ট হয়েছে কেন্দ্রের প্রকাশিত বহু রিপোর্টেও। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালে শিল্পে লগ্নি টানার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে দেশের বড় রাজ্যগুলির তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। তবে নতুন সরকারের হাত ধরে এই ছবিটা বদলাবে বলেই মনে করছে শিল্প মহল।
শিল্পোন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য দফতরের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২১-২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যে গত বছরেই সবচেয়ে কম লগ্নি প্রস্তাব এসেছে। ২০২৪ সালে এসেছিল ৩৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি। সেখানেই ২০২৫ সালে নেমেছে ৪২০০ কোটিতে। সংখ্যায় মাত্র ১৭টি। এই সময়ে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে ১৬টি প্রকল্প। এতে লগ্নি হতে পারে ৫৮৪২ কোটি টাকা। গোটা দেশের নিরিখে দুই ক্ষেত্রেই বাংলা রয়েছে ত্রয়োদশ স্থানে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, বছর দুয়েক আগেও পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান ছিল ৮-১০ নম্বরে। অর্থাৎ, সেখান থেকেও আরও অনেকটা নীচে নেমে এসেছে রাজ্য।
কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালে লগ্নি টানায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে আসা ১৪১টি প্রস্তাবে মোট লগ্নির অঙ্ক প্রায় ১.৩০ লক্ষ কোটি টাকা। আর প্রকল্প বাস্তবায়নে শীর্ষে গুজরাত। ২৩০টি প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রায় ২.৪৭ লক্ষ কোটি। দুই ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গের আগে রয়েছে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ের মতো রাজ্য।
প্রসঙ্গত, এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রক প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি (এফডিআই) টানা নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তাতেও ২০২৫ সালে এ রাজ্য ছিল দ্বাদশে। কর্নাটক, গুজরাত, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য কয়েক যোজন এগিয়ে। ফলে দেশি-বিদেশি, দুই ধরনের লগ্নি টানাতেই বাংলা রয়েছে পিছনের সারিতে। রাজ্যের এই চিত্রটাই বদলাতে নতুন বিজেপি সরকার চেষ্টা করছে বলে দাবি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। একাধিক বণিকসভার অনুষ্ঠানে তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, সারা দেশে যত এফডিআই এসেছে, তার মাত্র ০.৬% পৌঁছেছে বাংলার ঝুলিতে। সেখানে মহারাষ্ট্রে তা ৩৬.৬%। ফলে এ বার শুধু বিদেশি নয়, দেশীয় লগ্নি পশ্চিমবঙ্গে টেনে আনতে রাজ্যের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছে মোদী সরকার।
বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বারের শিল্প বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান দেবেন্দ্র গয়াল বলেন, “টাটা গোষ্ঠী রাজ্য থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরে গত ১৫ বছরে কার্যত রাজ্যে সে রকম নতুন লগ্নি আসেনি। তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে আশা করছি পরিস্থিতি অনেকটাই বদলাবে। তিন-ছ’মাসের মধ্যে চিত্রটা স্পষ্ট হবে।” ভারত চেম্বারের সভাপতি নরেশ পাচিসিয়ার বক্তব্য, “শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো, নীতি ও স্থানীয় শিল্পপতিদের আরও লগ্নিতে উৎসাহ দেওয়া— এই তিনের সম্বন্বয়ে একটি রাজ্য এগিয়ে চলে। বণিকসভা হয়ে সব সময়ে শিল্পের প্রসারে রাজ্যকে সাহায্য করব। কেন্দ্রের তথ্যই বলে দিচ্ছে রাজ্য কোথায় দাঁড়িয়ে। আশা, নতুন সরকারের আমলে লগ্নির পরিবেশ ফিরবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)