এক দিকে পশ্চিম এশিয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া। অন্য দিকে, দেশে এ বছর কম বৃষ্টির পূর্বাভাস। এই দুইয়ের জেরে ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে জানাল অর্থ মন্ত্রকের রিপোর্ট। অর্থনীতির হাল নিয়ে শনিবার তাদের প্রকাশিত মে-র রিপোর্ট বলছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কয়েক মাসে কমতে পারে বাজারে চাহিদা। ফলে সংস্থাগুলিও আর উৎপাদন বাড়ানোয় মন দেবে না। যে কারণে ধাক্কা খেতে পারে আর্থিক কর্মকাণ্ড। পাশাপাশি, যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধির হার চড়েছে। বর্তমান অবস্থা চললে তা আরও মাথা তোলার আশঙ্কা। তাই সে দিকে কড়া নজর রাখা জরুরি বলেও মত মন্ত্রকের।
ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল যুদ্ধে দীর্ঘদিন হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব বাজারে বেড়েছে পেট্রোপণ্যের দাম। অন্য দিকে, ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম পড়ায় মাথা তুলেছে রান্নার গ্যাস, সার, অশোধিত তেলের আমদানি খরচ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে ভর্তুকি খাতে বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে হওয়ায় চলতি খাতে ঘাটতি, বাণিজ্য ঘাটতি ও রাজকোষ ঘাটতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতি চড়লে তা দেশের আর্থিক শৃঙ্খলায় ধাক্কা দেবে। সেই আশঙ্কার কথা মেনেছে মন্ত্রকও। জানিয়েছে, জ্বালানির জোগান, পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি-রফতানির উপরে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ভারতে বেড়েছে পণ্য পরিবহণের খরচ। বৃষ্টি কম হলে খাদ্যপণ্যের দাম চড়তে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও চিন্তার কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক জুনের ঋণনীতিতে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।
তবে এ সমস্ত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি এখনও মজবুত এবং বাইরের বিপদ মোকাবিলায় সক্ষম বলেও দাবি করেছে মন্ত্রক। জানিয়েছে, উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের সূচক ঊর্ধ্বমুখী, কাজের জগতে স্থিরতা রয়েছে। বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট পোক্ত। ফলে চিন্তা থাকলেও, আগামী কয়েক মাসে আর্থিক বৃদ্ধির স্থিতিশীল থাকবে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে শীর্ষ ব্যাঙ্ক, কেন্দ্রের তরফে কাঠামোগত সংস্কার মূলক সিদ্ধান্ত জরুরি বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে তারা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)