বেশ কয়েক মাস ধরেই মন্দা চলছে গাড়ির বাজারে। গাড়ি বিক্রিতে ধস নামার ফলে বিপাকে পড়েছে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিও। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হিসেবে কর্মী ছাঁটাইকেই বেছে নিচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাণ শিল্প। অবস্থা এতটাই গুরুতর যে, এপ্রিল মাস থেকে চলতি মাসের মধ্যে কাজ হারিয়েছেন সাড়ে তিন লক্ষ কর্মী।

আরও পড়ুন:  কমতে পারে বাড়ি-গাড়ির ইএমআই, ফের রেপো রেট কমাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
                কাশ্মীরের উঠোনে লগ্নির তোড়জোড়

রয়টার্স সূত্রে জানানো হয়েছে, অন্তত পাঁচটি যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক সংস্থা আংশিক সময়ের কর্মীদের ব্যাপক পরিমাণে ছাঁটাই করেছে। মোদী সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এই ধস। এই অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার কথা অটোমেটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোশিয়েশনের সদস্যদের। সংস্থাকে উজ্জীবিত করার জন্যে তাঁরা চাইছেন কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ, কর ব্যবস্থার সংস্কার।

অটোমেটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোশিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেল বিনি মেহেতা স্বীকার করেছেন, মন্দার ফলে কাজ হারাচ্ছেন বহু কর্মী। তার মতে, এই মুহূর্তে গ্রাহক লোনের সুযোগ সুবিধে না বাড়ালে এবং গাড়ি ও যন্ত্রাংশ শিল্পকে ১৮ শতাংশ জিএসটির আওতায় না আনলে অবস্থার বদল সম্ভবও নয়।

রয়টার্স সূত্রে জানানো হচ্ছে, জাপানের গাড়ি নির্মাতা ইয়ামাহা মোটর, যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থা ভ্যালো ভারতে প্রায় ১৭০০ অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই করেছে। অন্য দিকে সার্বো ছাঁটাই করেছে ৮০০ কর্মী। জানা গিয়েছে সুজুকি ইন্ডিয়া কয়েক মাস আগেই ১৮ হাজার ৮৪৫ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করেছিল। জুন মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে এই কর্মীদের পুনর্বহাল করেনি সংস্থা। অন্য দিকে, টাটা মোটর গত দুই সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে। বারবার থমকে যাচ্ছে মহিন্দ্রার উৎপাদনও। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে হন্ডার রাজস্থান ও নয়ডার কারখানায় উৎপাদন বারবার থমকে গিয়েছে। এই সঙ্কটের আপাত সুরাহা হিসেবে সকলেই অস্থায়ী কর্মচারীই ছাঁটাইযের  পথেই হাঁটছে।

অবস্থা কবে বদলাবে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা কি পুনর্বহাল হবেন? না হলে তাদের ভবিষ্যৎ কী? এই ধরনের প্রশ্নে সব সংস্থার মুখেই কুলুপ।