সম্ভাবনা যতখানি, ব্যবহার তার ধারেকাছেও নয়। উৎপাদনে দেশে প্রথম সারিতে। কিন্তু ব্যবহারের দিক থেকে সচেতনতায় কড়া টক্কর দিচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্য। ওই দক্ষিণী রাজ্যে পাট উৎপাদন ও পাটজাত পণ্য ব্যবহারে আগ্রহ মুগ্ধ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্তাকেও। আর এ রাজ্য কেন সম্ভাবনা ছুঁতে পারছে না, তার ব্যাখ্যা হিসেবে বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির দাবি, রাজনীতি করতে গিয়েই অনেক সুযোগ হারাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।

মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এরিক সালহেম দিল্লিতে বলেন, অন্ধ্রে পাটচাষিদের কাজ দেখে তিনি মুগ্ধ। সেখানে জলের প্লাস্টিক বোতল বারবার না কিনে বরং একই বোতলে জল ভরার প্রবণতা। এই পরিবেশ সচেতনতা পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা অনেকের।

পরিবেশ সচিব সি কে মিশ্র এবং কৃষি সচিব এস কে পট্টনায়ক বলেন, ‘‘পাট উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যকে জানাতে চাই কেন্দ্র আর্থিক ও অন্যান্য ভাবে সাহায্য করতে তৈরি। রাজ্যকেও এগিয়ে আসতে  হবে।’’

এ দিনই এখানে যাত্রা শুরু করা দ্য জুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ সিংহ পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আমলা। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সব হাইওয়েতে পাট ব্যবহার করে পোক্ত রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের দাবি, অর্থাভাবে মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। এই খাতে কেন্দ্রের রাজ্যকে টাকা দেওয়ার তহবিল আছে।’’ ভবিষ্যতে এ নিয়ে রাজ্যের জন্য লড়তে চান তাঁরা। মিশ্র বলেন, চটের স্ট্র-ও তৈরি হচ্ছে। নতুন ভাবনা চাই।

সালহেম বলেন, ‘‘সুন্দরবনে বাঘের কাছে প্রাণ খোয়ানো মানুষের স্ত্রীকে চটের ব্যাগ বানাতে দেখেছি। যা ব্র্যান্ড হতে পারে।’’ এ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে রাজি কেন্দ্রও।