E-Paper

গন্তব্য পুরুলিয়া, বিরল খনিজ উত্তোলনে তৎপর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার

বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং যাবতীয় বৈদ্যুতিন পণ্যে যে ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়, তার মূল উপকরণ লিথিয়াম। তামা এবং ফসফেট রাসায়নিক শিল্পের কাঁচামাল।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৮:৫০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে শিল্পায়ন তথা সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোয় বাড়তি জোর দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সূত্রের খবর, সচিব স্তরের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই গুরুত্ব পেয়েছে বিরল খনিজ লিথিয়াম (ব্যাটারির মূল উপকরণ) উত্তোলনের পরিকল্পনা তৈরি। যার প্রথম ধাপে বিরল গোত্রের খনিজ উত্তোলন সংক্রান্ত জাতীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসনের শীর্ষমহল। লিথিয়ামের পাশাপাশি, তামা এবং ফসফেট উত্তোলনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। গোটা কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পুরুলিয়া জেলা।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পুরুলিয়াতে এই তিন খনিজের সন্ধান মিলেছিল আগেই। কিন্তু তা নিয়ে কোনও পরিকল্পনা করা হয়নি। এখন সেগুলি উত্তোলনে নামা হলে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) থেকে অপ্রচলিত শক্তি ক্ষেত্র, সেমিকনডাক্টর থেকে রাসায়নিক শিল্পের অভিমুখ এ রাজ্যের দিকে ঘুরতে পারে। জানা গিয়েছে, পরিকল্পনা তৈরি হবে পরিবেশ সংক্রান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েই।

বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং যাবতীয় বৈদ্যুতিন পণ্যে যে ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়, তার মূল উপকরণ লিথিয়াম। তামা এবং ফসফেট রাসায়নিক শিল্পের কাঁচামাল। কিন্তু এই সমস্ত বিরল খনিজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত বরাবর চিন-নির্ভর। সেই নির্ভরতা কাটাতেই দেশে উত্তোলনে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। জাতীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত হলে খনিজ উত্তোলনকারী সংস্থাগুলির কাছে এ রাজ্যের গুরুত্বও বাড়বে। তা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের আয় বাড়ানোর পথ খুলতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং কর্নাটকে লিথিয়ামের মজুত তুলনায় বেশি থাকলেও, অসমের কার্বি আংলং এবং এ রাজ্যের পুরুলিয়ায় এমন বিরল খনিজের সন্ধান মিলেছে। কেন্দ্রীয় নীতি অনুযায়ী সমীক্ষার মাধ্যমে মজুত খনিজের সঠিক তথ্য হাতে নিয়ে খনন প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব। ভারী শিল্প মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তাও মিলতে পারে। ফলে রাজ্য চাইছে, এই কাজের নিবিড় পরিকল্পনা শুরু হোক। দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য সংস্থাকে খনিজ উত্তোলনে নামাতে উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্রও।

বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পায়নের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছিল সিঙ্গুরে টাটাদের বিদায়ের পরেই। তা আর মেরামত হয়নি। এই পরিবেশ বদলাতে হলে এখন উৎপাদনে জোর দিতে হবে। লিথিয়াম, তামা এবং ফসফেটের মতো বিরল খনিজের সম্ভার তুলে ধরা গেলে, লগ্নিকারীরা এ রাজ্যে কারখানা চালু করতে দ্বিধা করবেন না। তার উপর কেন্দ্র বৈদ্যুতিক গাড়ি নীতি এনেছে। যা অচিরেই বাংলায় চালু হবে বলে ধারণা। কারণ, অন্যান্য রাজ্য ইতিমধ্যেই ওই নীতি তৈরি করে ফেলেছে। ফলে এমন ক্ষেত্রে লগ্নি আসার সম্ভাবনা বাড়বে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

purulia BJP Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy