E-Paper

প্রশ্নে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ-পদ্ধতি

সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, ‘‘নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সরকারের এই স্বাধীনতা দেখানো কেন?” বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার মতে, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হওয়াটাই যথেষ্ট নয়। তা যে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন, তা দেখানোও জরুরি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৯:২০

—প্রতীকী চিত্র।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করতে তিন জনের কমিটিতে প্রধান বিচারপতি ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে তৃতীয় জন কোনও নিরপেক্ষ ব্যক্তি হবেন না কেন? কেন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারেরই আর এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী হবেন? এ নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ল মোদী সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, ‘‘নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সরকারের এই স্বাধীনতা দেখানো কেন?” বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার মতে, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হওয়াটাই যথেষ্ট নয়। তা যে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন, তা দেখানোও জরুরি।

মোদী সরকারের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ আইন নিয়ে প্রশ্নের সঙ্গে আজ সেই আইনে নিযুক্ত বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারজ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধুর নিয়োগও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আমলা এস এন শুক্ল অসরকারি সংগঠন লোকপ্রহরী-র হয়ে অভিযোগ তুলেছেন, রাজনৈতিক কারণে জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিংহ সান্ধুকে নিয়োগ করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে থাকার সময় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদে ভূমিকা নিয়েছিলেন। সান্ধু উত্তরাখণ্ডের মুখ্যসচিব হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছিলেন। তাঁদের নির্বাচন পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁদের বাছাইকরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারই ২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত নিজেদের ইচ্ছেমতো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করত। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রায় দেয়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সংসদে আইন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে কমিটি নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করবে। মোদী সরকার আইন তৈরি করলেও, বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতিকে রাখেনি। প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে কমিটি তৈরি হয়। তিন জনের কমিটিতে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের লোক হয়ে যাওয়ায় অভিযোগ ওঠে, এর ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা আগের মতো সরকারের হাতেই চলে গেল। এর বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছিলেন, কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছা অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত হচ্ছে। তাঁর কিছু করার থাকছে না।

আজ সুপ্রিম কোর্টই প্রশ্নই তুলেছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রশ্ন করেন, ‘‘কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী থাকবেন কেন? ক্যাবিনেট মন্ত্রী কি প্রধানমন্ত্রীর মতের বিরুদ্ধে যাবেন? তা হলে আর বিরোধী দলনেতাকে রাখা কেন? তিনি তো আলঙ্কারিক হয়ে উঠবেন। কমিটিতে সব সময়ই তিন জনের মধ্যে দু’জন একদিকে, অন্য জন উল্টো দিকে থাকবেন।” কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরমণি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কি না তা তার কাজ দেখে নির্ধারণকরতে হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Supreme Court of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy