ব্যাঙ্কের পর এ বার টেলিকম। ধুঁকতে থাকা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) এবং মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেড (এমটিএনএল)-এর সংযুক্তিকরণে সবুজ সঙ্কেত দিল কেন্দ্র। দুই টেলিকম সংস্থার সংযুক্তিকরণে নীতিগত সায় দেওয়া হয়েছে বলে আজ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। একই সঙ্গে দুই সংস্থাতেই স্বেচ্ছাবসরের সিদ্ধান্তেও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই দুই সিদ্ধান্তে কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে বিএসএনএল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, মন্ত্রিসভার ঘোষণার পর সেই শঙ্কা কাটল বলেই মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে চলছে এমটিএনএল। প্রায় একই অবস্থা বিএসএনএল-এরও। সম্প্রতি বিএসএনএল-এ কর্মীদের বেতন নিয়েও সঙ্কট দেখা দেয়। এমনকি, সংস্থা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল নানা মহলে। এই প্রেক্ষিতেই বুধবার দুই সংস্থার সংযুক্তিকরণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রিসভা। সংযুক্তিকরণের জন্য পদ্ধতিগত ও আইনগত দিক-সহ যাবতীয় বিষয় দেখভালের জন্য একটি মন্ত্রিগোষ্ঠি গঠন করা হচ্ছে। তাঁরাই বিষয়টি তদারকি করবেন এবং কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেবেন।

অন্য দিকে দুই সংস্থাতেই কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরেও সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্র। বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে রবিশঙ্কর প্রসাদ সাংবাদিকদের জানান, খুব শীঘ্রই স্বেচ্ছাবসরের প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। তাঁর আশা কর্মীরাও সেই সিদ্ধান্তে খুশি হবেন এবং সহযোগিতা করবেন।

রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন, দুই সংস্থার পুনরুজ্জীবনে বাজারে বন্ড বিক্রি করে ১৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হবে। এ ছাড়া দুই সংস্থার হাতে থাকা অব্যবহৃত জমি বিক্রি করে উঠতে পারে ৩৮ হাজার কোটি টাকা, মনে করছে মন্ত্রিসভা।

 

The Modi Govt has announced several measures to revive BSNL & MTNL.

1⃣ Sovereign bond worth Rs 15,000 crore to be raised

2⃣ Assets worth Rs 38,000 crore to be monetized

3⃣ 4G Spectrum will be allotted to the Telecom PSEs pic.twitter.com/mlmacQhSJk

আরও পড়ুন: দিল্লিতে কলোনির ৪০ লক্ষ বাড়ির মালিকানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, বাড়ছে রবিশস্যের সহায়ক মূল্য

আরও পড়ুন: ইসকন মন্দিরে লোন উল্ফ কায়দায় জঙ্গি হানার ছক! ভারতীয় গোয়েন্দারা সতর্ক করল বাংলাদেশকেও

বিএসএনএল-এমটিএনএল-এ কর্মীদের মাইনে দিতেই প্রায় ৭৫ শতাংশ টাকা খরচ হয়। অথচ বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি অনেক কম কর্মী নিয়েও ভাল পরিষেবা দেয় বলে টেলিকম শিল্প মহলের মত। এই বিষয়টিও এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরের প্রকল্প নিয়ে আসছে কেন্দ্র। তাতে কর্মীসংখ্যা কমলে খরচ অনেকটাই কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রিলায়েন্সের জিয়ো পরিষেবা বাজারে আসার পর বিপাকে পড়ে যায় টেলিকম সংস্থাগুলি। কম দামে ডেটা এবং প্রায় বিনা পয়সায় আউটগোয়িং পরিষেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে অধিকাংশ সংস্থার ঝাঁপ গোটাতে হয়েছে। ভোডাফোন-আইডিয়া মিশে যাওয়ার পর এখন বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির মধ্যে জিয়ো ছাড়া শুধু এয়ারটেল এবং ভোডাফোনই টিকে রয়েছে। জিয়োর ধাক্কায় বিএসএনএল-এও সঙ্কট দেখা দেয়। বছর বছর কমছে লাভের অঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দুই সংস্থার সংযুক্তিকরণের দাওয়াই কাজে আসতে পারে বলেই মনে করছেন টেলিকম বিশেষজ্ঞরা।