ভুয়ো সংস্থার ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে আরও বেশি কড়াকড়ি আনতে চায় কেন্দ্র।

দীর্ঘ দিন লেনদেন হয়নি, এমন ভুয়ো সংস্থার পরিচালন পর্ষদে যাঁরা ডিরেক্টর রয়েছেন, তাঁরা পাঁচ বছর পর্যন্ত কোনও নথিবদ্ধ বা ‘রেজিস্টার্ড’ সংস্থায় ওই পদে বসার যোগ্যতা হারাতে পারেন। বেআইনি ভাবে টাকা সরানোর উদ্দেশ্য নিয়ে গড়া ওই সব সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের জাল ছড়াতে এই পথেই হাঁটছে কেন্দ্র। উদ্দেশ্য, একই সঙ্গে কালো টাকায় রাশ টানা। কারণ, এ ধরনের সংস্থাই অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি লেনদেন এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে অর্থ জোগানোর মাধ্যম বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

প্রায় ৩ লক্ষ এ ধরনের সংস্থা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নজরে এসেছে। এ বার কড়া ব্যবস্থা ব্যবস্থা নিতে রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজে (আর ও সি) নথিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে সেগুলির নাম কেটে দেওয়া ও ডিরেক্টরদের উপর বিধি-নিষেধ আনতে চায় কেন্দ্র। কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক সূত্রের খবর, তারা এ ধরনের সংস্থাকে নজরদারির জালে আনতে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছে। তার ভিত্তিতে ২০১৩ সালের কোম্পানি আইনে শাস্তির আওতায় আনা হবে ওই সব সংস্থার কর্তাদের।

ওই আইনের ১৬৪ ধারায় ভুয়ো হিসেবে গণ্য করার বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই রয়েছে এমন সংস্থা, যারা পরপর তিন বছর আর্থিক ফল সংক্রান্ত বিবৃতি বা বার্ষিক রিটার্ন দাখিল করেনি। কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এমন ২.৯৬ লক্ষ সংস্থার হদিস পেয়েছে। তারা একটানা তিন বছর না-হলেও দু’বছর বার্ষিক রিটার্ন জমা দেয়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে, ওই সব সংস্থা আদৌ কোনও ব্যবসা করেনি। এ ধরনের সংস্থার ডিরেক্টরদের ভবিষ্যৎ কার্যকলাপের উপরই বিধিনিষেধ আনতে চায় কেন্দ্র।

কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক ইতিমধ্যে এই সব সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে। জানতে চেয়েছে, তাদের নাম কেন আরওসি-র তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না।