রাজ্যে তৈরি হতে চলেছে রাসায়নিক শিল্পের (কেমিক্যাল) পার্ক। হাওড়ার রানিহাটি-আমতা রোডের পাশে। লগ্নির সম্ভাব্য অঙ্ক ২,০০০ কোটি টাকা। জমি লাগবে ৪০০ একর। ২০০ একরের উপর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলেই সেখানে আড়াই হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। বছর তিনেকের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে বলেও মনে করছে তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটিই রাজ্যের প্রথম কেমিক্যাল পার্ক। যেখানে দু’দফায় তৈরি হওয়ার কথা ২০০টি করে মোট ৪০০টি কারখানা। সরকারি সূত্রের দাবি, দেশেও নতুন রাসায়নিক শিল্প তালুক তৈরি হচ্ছে প্রায় দু’দশক পরে। গুজরাতের আঙ্কলেশ্বরের পরে এই প্রথম।
এই পার্ক তৈরি করছে ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসিএমএ বা ইকমা)। এ জন্য ইকমা ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামে বিশেষ সংস্থা (স্পেশ্যাল পারপাস ভেহিক্ল) গড়েছে তারা। ইকমা-র ডিরেক্টর তথা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্সের অন্যতম কর্তা সঞ্জীব কোঠারি বলেন, ‘‘ওই পার্কে কারখানা গড়বে মূলত ছোট-মাঝারি সংস্থা। পার্ক গড়তে রাজ্যের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। আশা করি, শীঘ্রই তা পাওয়া যাবে।’’ সায় মেলার ৩ বছরের মধ্যেই এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেই তাঁর দাবি।
রাজ্যের শিল্প সচিব রাজীব সিন্হা জানান, ‘‘জমি কেনার কাজ ইকমা করছে। তবে তা পাওয়ায় সমস্যা হলে রাজ্য সাহায্য করবে।’’ প্রথম পর্যায়ে কারখানা তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়েছে বলে কোঠারির দাবি।
এ রাজ্যে প্রকল্প গড়ায় অনেক সময়েই বাধা হয় জমি সমস্যা। কোঠারির দাবি, ‘‘ইকমা চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কিনছে। তা চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ। মালিকরা জমি বিক্রিতে রাজিও।’’ সমস্যা হলে রাজ্যের তরফে সাহায্যের হাত বাড়ানোর কথা বলছেন রাজীববাবুও। তা সত্ত্বেও অনেকে বলছেন, জমি নিয়ে এ রাজ্যে যা জটিলতা, তাতে পুরো জমি হাতে না-আসা পর্যন্ত বিশ্বাস নেই। নির্মাতাদের অবশ্য দাবি, অসুবিধা হবে না।
শিল্পে খরার এই রাজ্যের কাছে পার্কটি গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই। সারা দেশেই রাসায়নিক শিল্পের পার্ক তৈরি হয়নি গত ২০ বছরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশে যে ১৬টি কেমিক্যাল পার্ক রয়েছে, তার সিংহভাগই গুজরাতে। তবে রাসায়নিক শিল্পের সব থেকে বেশি কারখানা রয়েছে মহারাষ্ট্রে।
কোঠারি বলেন, ‘‘এ রাজ্যে শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক সামগ্রীর বাজার বিপুল। কিন্তু সিংহভাগই আসে ভিন্ রাজ্য থেকে। পরিবহণ খরচ বেশি লাগে। পার্কটি হলে, সে সমস্যা কিছুটা মিটবে। এখানে হলদিয়া পেট্রোকেম, হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েলের অনুসারী শিল্প স্থাপনের প্রস্তাবও এসেছে।’’ তিনি জানান, এই শিল্পে দূষণের সম্ভাবনা রুখতে বর্জ্য শোধনে গড়া হবে কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্টও।
বিনিয়োগ-ছবি
•
হাওড়ায় কেমিক্যাল পার্ক। রানিহাটি-আমতা রোডের পাশে
•
সম্ভাব্য লগ্নি ২,০০০ কোটি
•
মোট জমি লাগবে ৪০০ একর
•
তৈরি হবে দু’দফায়
•
প্রথম পর্যায়ে ২০০ একরে কারখানা প্রায় ২০০টি। দ্বিতীয় পর্যায়েও তা-ই
•
কারখানা গড়বে মূলত ছোট-মাঝারি সংস্থা
•
শুধু প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলেই আড়াই হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
•
গত দু’দশকে এই প্রথম কেমিক্যাল পার্ক হচ্ছে দেশে, দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের
•
রাজ্যের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা শীঘ্রই সায় মেলার
•
জমির মালিকদের কাছ
থেকে সরাসরি তা কিনছেন নির্মাতারা। প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস রাজ্যের