E-Paper

‘জাতীয় শিল্প-ভূমি পরিষদ’ তৈরির প্রস্তাব, শিল্পে জমির সমস্যা মেটাতে দাওয়াই সিআইআই-এর

নিজেদের রিপোর্টে বণিকসভাটির দাবি, কারখানা বা কোনও পরিকাঠামো তৈরিই হোক অথবা পণ্য পরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই জমি প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে দেশে সংস্থাগুলিকে একলপ্তে বড় জমি পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বহু মালিকের সঙ্গে বোঝাপড়া করে জমি ও ছাড়পত্র পেতে দেরির কারণে কাজ শুরু করতেও সময় লাগে বেশি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৯

— প্রতীকী চিত্র।

সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের প্রকল্প থেকে শুরু করে ওড়িশায় পস্কোর ইস্পাত কারখানা, শিল্পের অগ্রগতির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বরাবরই উঠে এসেছে জমির সমস্যা। এ বার তা মেটাতে ‘জাতীয় শিল্প-ভূমি পরিষদ’ (ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যান্ড কাউন্সিল) গঠনের প্রস্তাব দিল সিআইআই।

নিজেদের রিপোর্টে বণিকসভাটির দাবি, কারখানা বা কোনও পরিকাঠামো তৈরিই হোক অথবা পণ্য পরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই জমি প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে দেশে সংস্থাগুলিকে একলপ্তে বড় জমি পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বহু মালিকের সঙ্গে বোঝাপড়া করে জমি ও ছাড়পত্র পেতে দেরির কারণে কাজ শুরু করতেও সময় লাগে বেশি। ফলে বাড়ে সমস্যা ও খরচ। সিআইআই-এর মতে, এই সব কারণে ভারতে শিল্পের জন্য জমির জোগাড় করার ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার জরুরি। তাদের প্রস্তাবিত জমি পরিষদের কাজ হবে সে জন্য কিছুটা জিএসটি পরিষদের ধাঁচে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় রেখে চলা এবং জমির জটিলতা দ্রুত মেটানো। কারণ, জমি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হলে দেশি-বিদেশি লগ্নি বহুগুণ বাড়বে।

সিআইআই-এর সুপারিশ—

  • শিল্প মহল ও জমির মালিক বা সরকারের মধ্যে বিবাদ মেটাতে স্থায়ী মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে ভূমি পরিষদ। ফলে শিল্প সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে।
  • দেশে শিল্পের জমি ব্যবহারের নিয়ম ও নীতিতে সমতা আনা জরুরি।
  • বিনিয়োগের খরচ কমাতে দেশজুড়ে বসুক অভিন্ন স্ট্যাম্প ডিউটি।
  • বিভিন্ন রাজ্যে জমি লিজ় বা কেনার নিয়ম আলাদা। পরিষদ তৈরি হলে সারা দেশে একটি নীতি অনুসরণ করার সুবিধা হবে, যা ব্যবসা করার পথ আরও সুগম করবে।
  • তৈরি করা হোক ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (জিআইএস) ভিত্তিক ডিজিটাল জমি ব্যাঙ্ক। যেখানে লগ্নিকারীরা জমির অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাবেন।
  • আবেদন থেকে শুরু করে সব ধরনের ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াকে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে অনুমোদন নিশ্চিত করা।

শুধু জমি অধিগ্রহণ নয়, বরং জমির ব্যবহারযোগ্যতা ও দ্রুত মালিকানা হস্তান্তরের মতো বাধাগুলি দূর করতেই এই পরিষদের প্রয়োজন বলে জানান বণিকসভার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট টি ভি নরেন্দ্রনও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Government Land land disputes

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy