E-Paper

৯৫-এর দরজায় ডলার, বাড়ছে আমদানি নিয়ে চিন্তা, ফের ধস বাজারে

এ দিকে টানা দু’দিন ওঠার পর সপ্তাহের শেষ দিনে মুখ থুবড়ে পড়েছে শেয়ার বাজারও। শুক্রবার সেনসেক্স নেমেছে ১৬৯০.২৩ পয়েন্ট। নিফ্‌টি পড়েছে ৪৮৬.৮৫ পয়েন্ট। সূচক দু’টি থামে যথাক্রমে ৭৩,৫৮৩.২২ এবং ২২,৮১৯.৬০ অঙ্কে। বিএসই-র লগ্নিকারীরা হারিয়েছেন ৮.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার সম্পদ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৭:৪৮

—প্রতীকী চিত্র।

আমদানি খরচ নিয়ে চিন্তা বাড়িয়ে ডলারের সাপেক্ষে আরও তলিয়ে গেল টাকার দাম। শুক্রবার এই প্রথম ডলার থামল ৯৪.৮৫ টাকায়। এক ধাক্কায় আমেরিকার মুদ্রাটি বাড়ল ৮৯ পয়সা। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ৯৪ টাকার মাইলফলক ছুঁলেও, ডলার দিনের শেষে তার উপরে থামেনি। এ দিন তা ৯৫ টাকার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় টাকা আর কতটা নামবে, সেই চিন্তাই ভাবাচ্ছে সকলকে।

এ দিকে টানা দু’দিন ওঠার পর সপ্তাহের শেষ দিনে মুখ থুবড়ে পড়েছে শেয়ার বাজারও। শুক্রবার সেনসেক্স নেমেছে ১৬৯০.২৩ পয়েন্ট। নিফ্‌টি পড়েছে ৪৮৬.৮৫ পয়েন্ট। সূচক দু’টি থামে যথাক্রমে ৭৩,৫৮৩.২২ এবং ২২,৮১৯.৬০ অঙ্কে। বিএসই-র লগ্নিকারীরা হারিয়েছেন ৮.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার সম্পদ।

বাজার মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শেষের নিশ্চয়তা মিলছে না। ফলে বিশ্ব বাজারে এ দিন অশোধিত তেল ফের পৌঁছেছে ব্যারেলে ১১১ ডলারের উপরে। শেয়ার বাজারও পড়েছে বিপুল। এ সবের জের পড়েছে টাকায়। যাতে দেশের আমদানির খরচ চড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তার উপরে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভারতের বাজারে নাগাড়ে শেয়ার বিক্রি করছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। এ দিন তারা বেচেছে ৪৩৬৭.৩ কোটি টাকার। ফলে মাথা তুলছে ডলারের চাহিদা। উল্টো দিকে রফতানি ধাক্কা খাওয়ায় দেশে ডলার আসা কমেছে। টাকার অবমূল্যায়ন চলতে থাকলে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে। চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধিও। ফলে এপ্রিলের ঋণনীতিতে সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে।

আইসিইএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্ত বলছেন, ‘‘স্বল্প মেয়াদে ডলার ৯৫ টাকার আশেপাশে থাকারই সম্ভাবনা। মুদ্রার দরের দোলাচল রুখতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করলে সাময়িক সুরাহা হতে পারে। কিন্তু মাঝারি মেয়াদে টাকার দামের গতি নির্ভর করবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম, ভারতে বিদেশি পুঁজি আসা, আমেরিকায় সুদের হারের উপরে। তা প্রতিকূল হলে ডলার থাকতে পারে ৯৫-৯৭ টাকার মধ্যে। না হলে কিছুটা কমার সম্ভাবনা।’’

বাজার বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দীর মতে, ‘‘দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে বাজারে পুঁজি ঢালছেন না লগ্নিকারীরা। বরং শেয়ার বেচে মুনাফা তোলার প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা না কাটলে এই ধারা চলবে।’’ তাঁর বক্তব্য, তেল আমদানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সংস্থাগুলির আর্থিক ফলে পড়ার আশঙ্কা। যুদ্ধ থামলেও, পশ্চিম এশিয়ায় তেলের উৎপাদন কবে স্বাভাবিক হবে ঠিক নেই। ফলে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

আশঙ্কা

টাকার পতনে আরও বাড়বে আমদানি খরচ।

মাথাচাড়া দিতে পারে বাণিজ্য ঘাটতি।

কেন্দ্রের ঋণের খরচ বাড়লে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না-ও হতে পারে।

চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধিও।

দাম বৃদ্ধি আটকাতে এপ্রিলের ঋণনীতিতে বাড়নো হতে পারে সুদ।

চাহিদা কমায় ধাক্কা খেতে পারে আর্থিক বৃদ্ধিও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

US Dollars indian currency Share Market Indian Economy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy