E-Paper

তেল-গ্যাসের সাঁড়াশি চাপে আশঙ্কা মূল্যবৃদ্ধির, যুদ্ধ চললে বাড়তে পারে সুদের হারও

সরকার তেলে শুল্ক কমালেও, এর সুরাহা ক্রেতারা পাচ্ছেন না। বরং এর মাধ্যমে তেল সংস্থাগুলির লোকসান পোষানো হচ্ছে। এর আগেও বহু দিন তেল যখন ৬০-৬৫ ডলার ছিল ও রাশিয়া থেকে আরও কম দামে আমদানি করা হচ্ছিল, তার সুবিধা মানুষ পাননি।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৫

—প্রতীকী চিত্র।

যুদ্ধ থামাতে ইরান রফায় আসতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিতে মঙ্গল ও বুধবার লাফিয়ে বেড়েছিল শেয়ার সূচক। কিন্তু শুক্রবার ফের চুপসে যায় যখন বোঝা গেল সংঘর্ষ থামা নিয়ে আমেরিকার দাবির ভিত্তি নেই। এ দিকে এক মাস পেরিয়ে যুদ্ধ যত লম্বা হচ্ছে ততই ঘোরালো হচ্ছে ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি। আমদানি-রফতানি ধাক্কা খাচ্ছে অথচ তার খরচ বাড়ছে। ডলার ৯৫ টাকা ছোঁয়ার অপেক্ষায়। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলে ১১২.৫ ডলার। ফলে তেল, গ্যাস, সার-সহ বহু পণ্যের আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্য দিকে, ক্রমাগত ভারত ছাড়ছে বিদেশি লগ্নি। বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি আরও মাথা তোলার আশঙ্কা। যা ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ১০ মাসে সর্বোচ্চ। ফলে এপ্রিলের ঋণনীতিতে সুদ বৃদ্ধির জল্পনা শুরু হয়েছে।

সরকার তেলে শুল্ক কমালেও, এর সুরাহা ক্রেতারা পাচ্ছেন না। বরং এর মাধ্যমে তেল সংস্থাগুলির লোকসান পোষানো হচ্ছে। এর আগেও বহু দিন তেল যখন ৬০-৬৫ ডলার ছিল ও রাশিয়া থেকে আরও কম দামে আমদানি করা হচ্ছিল, তার সুবিধা মানুষ পাননি। বরং আশাতীত লাভ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র কেন বারবারই তাদের সুবিধা করে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সব সংস্থার মুনাফা বাড়লে কেন্দ্রের ঘরে মোটা ডিভিডেন্ড ঢোকে।

যুদ্ধের যন্ত্রণা পৌঁছেছে ভারতের ঘরে ঘরে। আশঙ্কার বিষয় হল—

  • রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। তা পেতে হচ্ছে হয়রানি। বাণিজ্যিকের অভাবে সমস্যায় হোটেল-রেস্তরাঁ।
  • সিএনজি-র দাম বাড়ায় বেশ কিছু রুটে অটো ভাড়া বেড়েছে। তেল-গ্যাসের অভাবে সঙ্কটে পর্যটন শিল্প।
  • বিমান ভাড়া বেড়েছে, তাতে সারচার্জ বসেছে।
  • সারের দাম বাড়লে খাদ্যপণ্যেরও দাম বাড়বে।
  • দর বাড়তে পারে রং থেকে শুরু করে নানা প্লাস্টিকের মতো পেট্রোপণ্য নির্ভর বহু জিনিসের।
  • হরমুজ় এড়াতে পণ্য নিয়ে জাহাজ ঘুরপথে এলে সময় এবং ভাড়া বেশি লাগবে, বাড়বে বিমার খরচ। ফলে আমদানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা।
  • দুর্বল হতে পারে অনেক সংস্থা। কাজ হারাতে পারেন বহু কর্মী।
  • মানুষ জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য খরচ কমানোয় ধাক্কা খাচ্ছে চাহিদা।

সব মিলিয়ে মার্চে চড়তে পারে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি। মাসখানেক আগেও সুদ কমা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এখন চর্চা শুরু হয়েছে তা বাড়ানো নিয়ে। সুদ বৃদ্ধি শিল্পের কাছে কাম্য নয়। এ দিকে, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে ধাক্কা লাগবে রাজকোষ ঘাটতি ও জাতীয় উৎপাদনে। আশঙ্কা, তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বৃদ্ধির হার নামতে পারে ৪০-৫০ বেসিস পয়েন্ট। ফলে বাজারের বড় উত্থান আশা করা যায় না। যুদ্ধ থেমে হরমুজ় খুললে সূচক উঠবে। তবে উত্থান ধরে রাখা কঠিন। ছন্দে ফিরতে সময় নেবে শিল্প-বাণিজ্য।

স্থির আয় প্রকল্পে এখন সুদ কমার সম্ভাবনা নেই। বরং তা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড) পৌঁছেছে ৬.৯৩ শতাংশে। ভাল রেটিংয়ের বেসরকারি বন্ড কিনলে বেশি ইল্ড পাওয়া যেতে পারে। উল্লেখ্য, সুদ বাড়লে বন্ডের দাম কমে ও ইল্ড বাড়ে। সুদ কমলে হয় উল্টোটা।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Economy Economic Growth West Asia Crude Oil LPG Crisis Share Market

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy