ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বেড়ে গেলে উৎপাদন শুল্ক ছাঁটতে পারে মোদী সরকার। সূত্রের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম জানুয়ারির পরে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ১০% বেড়ে ব্যারেল ৭৭ ডলার ছাড়িয়েছিল। সোমবার রাতে ৭১ ডলারে নামে। দাম ১০০ ডলার ছাপালে বা এর ফলে পেট্রল-ডিজ়েল লিটারে ১২০ টাকার ঘরে গেলে শুল্ক কমানোর কথা ভাবা হতে পারে।
তেল মন্ত্রকের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রান্নার গ্যাসও (এলপিজি)। তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানান, কয়েক সপ্তাহের অশোধিত তেল মজুত রয়েছে। তা জোগাতে আপাতত সমস্যা হবে না। কিন্তু এলপিজি নিয়ে চিন্তা রয়েছে। দেশের বন্দর, শোধনাগার, বিবিধ টার্মিনাল মিলিয়ে তার মোট মজুত ১৬ দিনের চাহিদা মেটাবে। ফলে গ্যাসেরও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা।
এলপিজি বন্দর ও টার্মিনালে মজুত থাকে সর্বাধিক ১৫ দিনের। শোধনাগারে তা ৭ দিনের। বিক্রেতার কাছে সর্বাধিক ২ দিনের। অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বিজন বিশ্বাস বলেন, “আমাদের কাছে স্বাভাবিক মজুতই রয়েছে। তবে সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।” উল্লেখ্য, ১-২ দিনে বাড়িতে সিলিন্ডার মিলছে এখন।
ভারতের এখন সব থেকে বড় চিন্তা ইরানের হরমুজ় প্রণালী বন্ধের হুমকি। দৈনিক যে ৫৫ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল কেনা হয়, তার ২০ লক্ষই আসে এখান দিয়ে। তেল মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, হরমুজ়ে সমস্যা হলে রাশিয়া, আমেরিকা ও ব্রাজ়িল থেকে আমদানি বাড়াতে হবে। যে তেল সুয়েজ খাল ও উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে আসে। তবে আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে কিনলে বেশি খরচের কথাও মনে করাচ্ছেন মন্ত্রকের কর্তারা।
অশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫% আমদানি করে ভারত। গ্যাসের ক্ষেত্রে তা প্রয়োজনের অর্ধেক। তেলের ৪০% এবং গ্যাসের অর্ধেকই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। পুরীর বক্তব্য, দু’সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে নজর রাখা হচ্ছে। তবে এখন বিভিন্ন দেশ থেকে তেল-গ্যাস কেনা হয় বলে হরমুজ়-নির্ভরতা কমেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে বেশ কয়েক সপ্তাহের তেল রয়েছে। বিভিন্ন সমুদ্র পথে জাহাজে তেল-গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। দেশে জ্বালানির জোগান বহাল রাখতে সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)