E-Paper

দেশের আর্থিক ভিত পোক্ত, তবে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল, জানিয়ে দিল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক

ঋণনীতি ঘোষণায় আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রের স্পষ্ট বার্তা, মাঝারি থেকে লম্বা মেয়াদে ভারতে সুদের হার কমই থাকবে। যা স্বস্তি দিয়েছে বিভিন্ন ঋণ শোধের জন্য মাসে মাসে কিস্তি গোনা মানুষদের এবং শিল্পকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৪

— প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব জুড়ে জোগান শৃঙ্খলে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকি বাড়িয়েছে মূল্যবৃদ্ধির। ফলে ভারতের আর্থিক ভিত পোক্ত থাকা সত্ত্বেও সাবধান থাকা প্রয়োজন। বুধবার মূলত এই বার্তা দিয়েই সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, সুদ কমানোর জায়গা রয়েছে। তবু শেষ পর্যন্ত রেপো রেট (যেসুদে ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয় শীর্ষ ব্যাঙ্ক) স্থিরই রইল ৫.২৫ শতাংশে।

ঋণনীতি ঘোষণায় আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রের স্পষ্ট বার্তা, মাঝারি থেকে লম্বা মেয়াদে ভারতে সুদের হার কমই থাকবে। যা স্বস্তি দিয়েছে বিভিন্ন ঋণ শোধের জন্য মাসে মাসে কিস্তি গোনা মানুষদের এবং শিল্পকে। সঞ্জয় জানান, এর আগে তাঁরা মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো ছেঁটেছেন। কিন্তু ব্যাঙ্কগুলি ঋণে সুদ কমিয়েছে ৯০ বেসিস পয়েন্ট। জমায় কমেছে ১০০ বেসিস পয়েন্টের বেশি। এই বক্তব্য ব্যাঙ্ককে আরও সুদ ছাঁটার বার্তা বলেই ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট মহলের।

ঋণনীতি ঘোষণায় এসেছে যুদ্ধের জেরে ভারতীয় অর্থনীতির সামনে মাথা তুলে থাকা ঝুঁকিগুলি সম্পর্কে সতর্কবার্তাও। তার মধ্যে আছে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের চড়া দর, আমদানি পণ্যের হাত ধরে মূল্যবৃদ্ধি চড়ার আশঙ্কা, শিল্প ও কৃষিতে চড়া জ্বালানি ও সারের দামের ধাক্কা, বিক্রি এবং লগ্নি কমার কথা। মলহোত্র জানান, যুদ্ধ দেশে জ্বালানির জোগান ও কিছু পরিকাঠামোর যে ক্ষতি করেছে, তাতে মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে। ভুগছে রফতানিও। তিনি বলেন, ‘‘দেশের মজবুত আর্থিক ভিত আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি আনা এবং মূল্যবৃদ্ধি কমানোর পক্ষে সহায়ক। তবে মার্চ থেকে অবস্থা খারাপ হতে থাকে। বাড়তে থাকে অনিশ্চয়তা। ফলে অর্থনীতির মূল বিষয়গুলি নিয়ে দেওয়া পূর্বাভাস নামতে থাকে নীচে।’’

বিশ্ব বাজারে তেলের চড়া দরের ঝুঁকির কারণেই চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক বাদে বাকি ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে আরবিআই। গোটা অর্থবর্ষে তা ৪.৬%। এই প্রথম ঋণনীতিতে খাদ্য ও জ্বালানি বাদে বাকি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (কোর ইনফ্লেশন) পূর্বাভাসও দিয়েছেতারা। যার হার ৪.৪%। সম্প্রতি সরকারি মহলের একাংশ খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হিসাব থেকে খাদ্য ও জ্বালানিকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে। সেই প্রেক্ষিতে এই পূর্বাভাস তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত একাংশের। চলতি অর্থবর্ষে আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৯%। গতবারের ৭.৬% অনুমানের তুলনায় যা বেশ কম।

অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন, “ভারতে যুদ্ধের সব থেকে খারাপ প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। চাহিদা মেটাতে যার বেশির ভাগই আমদানি করতে হয়। তাই মূল্যবৃদ্ধির চড়ার আশঙ্কা। এই অবস্থায় বরং সুদ বাড়ানোর কথা। কিন্তু তাতে আর্থিক বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। তাই সুদ স্থির রেখে ঠিক করেছে আরবিআই।’’

ঝুঁকির বার্তা

বিশ্ব জুড়ে শ্লথ আর্থিক বৃদ্ধি ভারতীয় রফতানির চাহিদা কমাতে পারে।

কমতে পারে বিদেশ থেকে দেশে অর্থ প্রবাহ।

জ্বালানি এবং সারের জোগানে ধাক্কা খরচ বাড়াতে পারে। কমাতে পারে উৎপাদন।

চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধি।

প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় নগদের জোগানে।

লগ্নি ও বিক্রি কমার পাশপাশি বিপাকে পড়তে আর্থিক স্থিতিশীলতা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Asia US-Israel vs Iran Indian Economy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy