গত অর্থবর্ষে (২০১৭-১৮) ৬৩০ কোটি টাকার মুনাফা ঘরে তুলেছিল সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন (এসপিএমসিআইএল)। কেন্দ্রকে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ২০০ কোটি টাকা। এ বার সংস্থার পরিকাঠামোকে পুরোপুরি ব্যবহার করে মুনাফার অঙ্ক ৬,০০০ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জোর দিলেন ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। একই সঙ্গে দিলেন বিভিন্ন দেশের মুদ্রা তৈরি করে রফতানির পরামর্শও। 

রবিবার এসপিএমসিআইএলের ১৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে গয়াল বলেন, সংস্থার তরফেই তাঁকে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের মুদ্রা তৈরির জন্য সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে কথা শুরু হয়েছে তাদের। সে ক্ষেত্রে ইউরোপ এবং আফ্রিকার কিছু দেশে মুদ্রা রফতানি করতে পারে তারা। এর জন্য সংস্থার ন’টি উৎপাদন কেন্দ্রের পরিকাঠামো আরও আধুনিক করতে হবে। এর পাশাপাশি, বড় বরাত পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে বলে রবিবার জানান গয়াল। 

রসিকতার মেজাজে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাজেটের আগে যদি আমাকে ডাকতেন, তা হলে সুবিধা হতো। কারণ বাজেটের জন্য অনেক টাকা দরকার। আর আপনারা তো টাকাই ছাপান! আমেরিকায় তো নাকি টাকা ছেপেই ঘাটতি পূরণ করা হয়।’’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রের আর্থিক বিষয়ক সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ অবশ্য বলেন, এই ধারণা ঠিক নয়। 

এসপিএমসিআইএল ব্যাঙ্ক নোট, সিকিউরিটি পেপার, ডাকঘরের স্ট্যাম্প, স্মারক মুদ্রা তৈরি করে। গর্গ এ দিন জানিয়েছেন, হোসাঙ্গাবাদে সংস্থার প্রস্তাবিত ছাপাখানাটি তৈরি হয়ে গেলে নোটের কাগজ আর আমদানি করতে হবে না। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ছাপাখানাগুলিকেও নোটের কাগজ সরবরাহ করতে পারবে তারা। 

এ দিনের অনুষ্ঠানে কলকাতার টাঁকশালের প্রতিনিধিরাও এসেছিলেন। নোটবন্দির সময়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, এমনিতে বছরে ১৫৪ কোটি নোট ছাপানো হয় কলকাতার টাঁকশালে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে বাড়তি ৫০ কোটি নোট ছাপানো হয়েছিল সেখানে।