সুইগি, ব্লিঙ্কিট, জ়োম্যাটো, অ্যামাজ়নের মতো অনলাইন সংস্থাগুলির পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কর্মীদের (ডেলিভারি বা গিগ কর্মী) কর্মবিরতির পরে তিন দিন পেরিয়ে গিয়েছে। তবে তাঁদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়া নিয়ে তরজা বহাল এখনও। জ়োম্যাটো কর্তা দীপেন্দ্র গয়াল দাবি করেছেন, বঞ্চিত হওয়া দূর অস্ত্। আসলে গিগ কর্মীদের আয় বেড়েছে। তা উড়িয়ে ধর্মঘটী ইউনিয়নের বক্তব্য, ওই হিসাব ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় কাজ করার পরেও কাজের নিরাপত্তা নেই। পিএফ, বিমার মতো সুরক্ষা মেলে না। উল্টে ‘কুইক কমার্স’ অর্থাৎ ৮-১০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি তৈরি হয়। পৌঁছতে দেরি হলে মজুরি কাটা হয়, দিতে হয় জরিমানা। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে আসা খসড়া আইনে দেখা গিয়েছে মোদী সরকার নতুন শ্রম আইনে গিগ কর্মীদের জন্য কিছু সুবিধা এনেছে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, দেরি করে সরকারের চোখ খুলল।
সরকারের এ সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, একটি সংস্থায় ন্যূনতম ৯০ দিন ধারাবাহিক ভাবে কাজ করলে গিগ কর্মীরা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আসবেন। একাধিক সংস্থায় কাজ করলে ওই দিনের সংখ্যা হবে ১২০। এক দিন কাজ করে যে কোনও অঙ্কের টাকা রোজগার করলেই সেই দিনকে হিসেবে ধরা হবে। খসড়া প্রস্তাব নিয়ে সব পক্ষের মতামত ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে চেয়েছে কেন্দ্র। তার পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ করতে অনেক দেরি হল। গিগ কর্মীদের একটু সম্মানজনক কাজের পরিবেশ চেয়ে আন্দোলন শুরু করার পরে কেন্দ্রের হুঁশ ফিরেছে। তবে এখনও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তেলঙ্গানা, রাজস্থান বা কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের ধারেকাছে আসে না। ওই সব রাজ্যগুলি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাজ থেকে যখন-তখন ছাঁটাই বন্ধ করার একাধিক নিয়ম এনেছেন।
গিগ কর্মীদের আন্দোলনের ব্যাপারে জ়োম্যাটো কর্তা সমাজমাধ্যমে জানান, তাঁরা মোটেই বঞ্চিত হচ্ছেন না। বরং ২০২৪ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে তাঁদের আয় প্রায় ১১% বেড়েছে। সব খরচ বাদ দিলেও দিনে ১০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন কর্মী ন্যূনতম ২১ হাজার টাকা রোজগার করেন। তবে কর্মী ইউনিয়নগুলির দাবি এই অঙ্ক ঠিক নয়। গোটা বিষয়টি আরও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছে তারা। নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও অমিতাভ কান্ত আবার নাম না করে বিরোধীদের বিঁধে বলেছেন, যাঁরা একটিও কর্মসংস্থান করতে পারেনি, তাঁরা এর স্বপক্ষে কথা বলছেন। এ ভাবে গিগ কর্মসংস্কৃতিতে রাজনৈতিক রং লাগালে, তা এই ক্ষেত্রের উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)