E-Paper

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সঙ্কটে আমদানি-রফতানি, বাণিজ্যে সুরাহার আশ্বাস কেন্দ্রের

বৈঠকে পণ্য পরিবহণে যাতে সঙ্কট তৈরি না হয় তার ব্যবস্থা করা, দেরি কমিয়ে আনার বন্দোবস্ত, নথিপত্র ঠিক রাখা, লেনদেন যাতে ঠিকমতো কার্যকর হয় তা দেখা এবং ছোট শিল্পের সুরাহার দাবি জানিয়েছে বাণিজ্য মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৪

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলা ও তেহরানের পাল্টা আক্রমণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আমদানি-রফতানি ঘিরে। বিশেষত ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য কী ভাবে সরবরাহ করা হবে তা নিয়ে বাড়ছে চিন্তা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সুরাহার খোঁজে রফতানিকারী-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল বাণিজ্য মন্ত্রক। ছিলেন পণ্য পরিবহণ ক্ষেত্র ও বিভিন্ন মন্ত্রকের কর্তারাও। সেখানে পণ্য পরিবহণের রুট, তাতে কত সময় লাগছে, জাহাজ যাওয়ার দিনক্ষণ, দেরি রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, জাহাজ ও পণ্যের বিমার মতো বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন রফতানিকারীরা। রফতানি খরচ কমাতে ও উড়ান ব্যাহত হওয়ার কারণে বিমাননিয়ন্ত্রক ডিজিসিএ-র কাছে বস্ত্র রফতানিকারীরা টার্মিনালে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দিন পণ্য মজুত রাখার চার্জ মকুবের দাবি জানিয়েছেন। কেন্দ্র সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।

বৈঠকে পণ্য পরিবহণে যাতে সঙ্কট তৈরি না হয় তার ব্যবস্থা করা, দেরি কমিয়ে আনার বন্দোবস্ত, নথিপত্র ঠিক রাখা, লেনদেন যাতে ঠিকমতো কার্যকর হয় তা দেখা এবং ছোট শিল্পের সুরাহার দাবি জানিয়েছে বাণিজ্য মহল। জোগানশৃঙ্খলে যাতে ধাক্কা না লাগে এবং দেশের প্রয়োজনে পণ্য উৎপাদন করতে কাঁচামাল আমদানিতে যাতে সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বার্তা তাঁদের। এই মহলেরবক্তব্য, বিশেষত ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের মতো পণ্য (যেগুলি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাথাকে) কী ভাবে দ্রুত রফতানি করা যায়, তা নিশ্চিত করতে বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা জরুরি। বাণিজ্য মন্ত্রকের আশ্বাস, দ্রুত পণ্য খালাস এবং রফতানিতে সাহায্যের জন্য আমদানি কর্তৃপক্ষ ও ঋণদাতা ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলা হবে। আগামী দিনেও নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা হবে সমস্ত পক্ষের সঙ্গে।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়তে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা কোথায় গিয়ে পড়বে তা-ও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তো রয়েছেই। পাশাপাশি অত্যাবশ্যক পণ্যের দাম বাড়বে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তার মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্যও। চাল, বস্ত্র, রত্ন অলঙ্কার, বৈদ্যুতিন পণ্যের রফতানি ধাক্কা খেতে শুরু করেছে আকাশপথে গোলমালের জন্য। অন্য দিকে ভারত বছরে ৬০ লক্ষ টন ডাল আমদানি করে মায়ানমার, কানাডা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সংঘাত আরও কিছু দিন গড়ালে ডালের দাম বাড়বে। ভারতের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ১৫ শতাংশ যায় পশ্চিম এশিয়ায়। এখন তা বন্ধ। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় রত্ন অলঙ্কার এবং বস্ত্র রফতানি মার খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপ এবং আমেরিকাগামী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হলে বেড়ে যাবে খরচ। একই ভাবে ব্যাহত হবে সার রফতানি।

ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রফতানি সংগঠন ইইপিসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান রবি সায়গলের মতে, এখন বহু ক্ষেত্রে যে পণ্য পাঠানো হচ্ছে, তা ঠিক সময়ে পৌঁছবে না। ফলে ক্রেতারা দাম কবে দেবে বা আদৌ দেবে কি না, নিশ্চিত নয়। সাধারণত রফতানি ঋণের বিমার ৭০%-৮০% মেটানো হয়। বর্তমান অবস্থায় তা ১০০% করলে সুবিধা হবে। রফতানি ঋণ মেটানোয় দেরি হলে বাড়তি সুদ বা জরিমানা মকুবের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

US-Iran Relation Iran-Israel Situation Import Export

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy